ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

১৩ বছরের আইনি লড়াই শেষে ১০শতক জমির দখল পেলেন রেজিয়া বেগম

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি | সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম ১৩ বছরের আইনি লড়াই শেষে ১০শতক জমির দখল পেলেন রেজিয়া বেগম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান হয়েছে। আদালতের ডিক্রির পর প্রশাসনের মাধ্যমে ১০শতক ভূমির দখল বুঝে পেয়েছেন রেজিয়া বেগম। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা নাজির ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ ও দখল হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামের। দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের সোলায়মান মিয়ার পুত্র ইদ্রিস মিয়ার সঙ্গে ওই ভূমি নিয়ে রেজিয়া বেগমের বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জেরে ২০১৪ সালে তিনি নাঙ্গলকোট সিভিল জজ আদালতে প্রিয়েমশান (Pre-emption) মামলা নং-২২/২০১৪ দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত রেজিয়া বেগমের পক্ষে ডিক্রি দেন। আদালতের ওই ডিক্রি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ১৩ সেপ্টেম্বর ভূমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়। 

আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাঙ্গলকোটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন চাকমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন চাকমা ও জেলা নাজির মমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ভূমিতে দখল হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হয়। পরে আদালতের ডিক্রি অনুযায়ী ১০শতক ভূমি রেজিয়া বেগমের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। দখল হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 

নাঙ্গলকোট থানার ওসি (তদন্ত) শাহজালালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এবং কুমিল্লা জেলা পুলিশ থেকে আসা আরেকটি দল ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করে। পুলিশ প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, আদালতের ডিক্রিপ্রাপ্ত ভূমিতে দখল হস্তান্তরের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নাঙ্গলকোট থানা ও পুলিশ লাইন্স থেকে কর্মকর্তা ও সদস্যদের সমন্বয়ে একটি দল প্রস্তুত রাখা হয়। পরে নির্ধারিত সময়ে তাদের ঘটনাস্থলে মোতায়েন করে প্রয়োজনীয় আইনগত নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা অফিস আদেশে আদালতের ডিক্রিপ্রাপ্ত ভূমিতে দখল হস্তান্তরকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় আইনগত দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য নাঙ্গলকোটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন চাকমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

 দীর্ঘ ১৩ বছর মামলা পরিচালনার পর আদালতের ডিক্রি অনুযায়ী প্রশাসনের মাধ্যমে জমির দখল বুঝে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রেজিয়া বেগম। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ মহান। তিনি আমাকে উপযুক্ত সম্মান দিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর আদালতের রায়ের মাধ্যমে আমার জমির দখল বুঝে পেয়েছি। নাঙ্গলকোট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন চাকমা বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী জমিটি রেজিয়া বেগমকে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!