নওগাঁর মান্দায় নিবন্ধিত প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মাঝে মৎস্য আহরণ টিকিট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘জবই বিল ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিলসমূহে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় নির্ধারিত বার্ষিক ফি গ্রহণের মাধ্যমে এ টিকিট বিতরণ করা হচ্ছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিজ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য আহরণ টিকিট বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইউএনও মোসাঃ আতিয়া খাতুন।
এ সময় ‘জবই বিল ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিলসমূহে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর ফিল্ড ফ্যাসিলেটর মোজাফফর হোসেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিএ পলাশ কুমারসহ স্থানীয় মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের আওতায় মান্দা বিল, উথরাইল বিল ও চক কসবা বিলে টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের নিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিলগুলোতে সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে মাছ আহরণ এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের জালের জন্য বার্ষিক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্ধারিত ফি অনুযায়ী ৩০০ হাত বেড় জালের জন্য বার্ষিক ৮ হাজার টাকা, ১০০ হাত ছোট বেড় জাল বা টাকটা জালের জন্য ১ হাজার টাকা, মই জালের জন্য ১ হাজার টাকা, ১০টি আটি জালের জন্য ১ হাজার টাকা এবং হুইলের জন্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কাঁঠা জাল, ঠেলা জাল, খোলশন, বড় ভ্যাড় ও সিট জালের জন্য ১ হাজার টাকা করে এবং তৌড়া জাল বা খেয়া জালের জন্য ৫০০ টাকা বার্ষিক ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এসব ফি নির্ধারণ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, নিবন্ধিত মৎস্যজীবীরা নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে আহরণ টিকিট গ্রহণের মাধ্যমে সমিতির আওতাভুক্ত বিলগুলোতে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মাছ ধরতে পারবেন। এর ফলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা মাছ আহরণের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি বিলের মৎস্যসম্পদের ওপর অনিয়ন্ত্রিত চাপ কমবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, মৎস্য আহরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি এ কার্যক্রম অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা রোধ, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কালের সমাজ/কে.পি

