গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র জৈনাবাজারে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাটে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে আগাম কোনো নোটিশ বা সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ পরিচালিত এই অভিযানে কোটি টাকার মালামাল ও পুঁজি হারিয়ে পথের ফকির হয়ে পড়েছেন শতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী।
রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত টানা এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ভূঁইয়া শিশির। অভিযান চলাকালে বুলডোজার দিয়ে মহাসড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের প্রায় শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় জমজমাট জৈনাবাজারের ফুটপাত ও আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। উচ্ছেদ অভিযান শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ ব্যবসায়ীরা তীব্র ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করেন।
তাঁরা জানান, মহাসড়ক বা ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানো সমর্থনযোগ্য নয়—সেটি তাঁরাও স্বীকার করেন। কিন্তু যেসব দোকান মহাসড়ক কিংবা ফুটপাত থেকে বেশ দূরে এবং নিরাপদ দূরত্বে ছিল, সেগুলোতেও কোনো সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের মালামাল ও দোকানঘর সরিয়ে নেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কান্নাভেজা কণ্ঠে দাবি করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি অন্তত কিছুটা সময় বা সুনির্দিষ্ট একটি নোটিশ দেওয়া হতো, তবে আমরা মালামাল সরিয়ে নিতে পারতাম।
কোনো প্রকার আগাম সতর্কবার্তা ছাড়া এভাবে উচ্ছেদ চালানোয় আমাদের উপার্জনের শেষ সম্বলটুকুও ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা এখন পরিবার নিয়ে নিঃস্ব ও দিশেহারা। এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ ভূঁইয়া শিশির বলেন রাস্তায় যেন কোন যানজট না হয় সে উপলক্ষে আমরা প্রতিনিয়ত এমন অভিযান পরিচালনা করে থাকি , এমন অভিযান বিগত দেড় মাস ধরে চলছে এবং যতক্ষণ না পর্যন্ত অবৈধ দখলদার মুক্ত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফুটপাত ও মহাসড়ক দখলমুক্ত করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ হলেও মানবিক দিক বিবেচনায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সামান্য সুযোগ দেওয়া কিংবা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ছিল।
কালের সমাজ/কে.পি

