বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে খোলা আকাশের নিচে বটতলায় ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের নির্দেশে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আল মুরাদ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পরিদর্শন শেষে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল মুরাদ জানান, বিদ্যালয়টিতে শ্রেণিকক্ষ সংকট রয়েছে। বর্তমানে যে শ্রেণিকক্ষগুলো আছে, সেগুলোর অবস্থাও পাঠদানের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ অন্যান্য সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
এর আগে গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকট নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে উঠে আসে, পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বিদ্যালয়ের কয়েকটি শ্রেণির পাঠদান খোলা আকাশের নিচে বটতলায় করাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২২৪ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ভবনের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ফ্লোর ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্ষাকালে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে। এ ছাড়া হোয়াইট বোর্ড ভাঙা এবং ডিজিটাল ক্লাসের কোনো ব্যবস্থা নেই বলেও জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন মণ্ডল বলেন, “শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে কয়েকটি ক্লাস বটতলায় নিতে হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। বিদ্যালয়ে একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণ করা জরুরি।”
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ অন্যান্য বিষয় চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি লিমন বিশ্বাস ইউনুস বলেন, “প্রায় আড়াইশ শিক্ষার্থী থাকা এই বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান নিশ্চিত করতে অবিলম্বে একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।” বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা দ্রুত শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসন এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কালের সমাজ/কে.পি

