ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই হাজার ৯৫৬ জনে মাত্র একজন পুলিশ! কুমিল্লায় তীব্র জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে নিরাপত্তা

কালের সমাজ ডেস্ক | সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম দুই হাজার ৯৫৬ জনে মাত্র একজন পুলিশ! কুমিল্লায় তীব্র জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে নিরাপত্তা

সীমান্তবর্তী ও জনবহুল এই জেলায় মাদক ও চোরাচালান রোধে পুলিশ বাড়াতে জোরালো দাবি সুশীল সমাজের

বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে আয়তন, জনসংখ্যা ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা কুমিল্লা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে অতীতে বিভিন্ন সময়ে জেলা পুলিশ প্রশাসন শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেলেও বর্তমানে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। জেলার বর্তমান জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক বাস্তবতার তুলনায় পুলিশের লোকবল প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কুমিল্লা জেলায় প্রায় ২ হাজার ৯৫৬ জন নাগরিকের বিপরীতে মাত্র একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ দেশের অনেক জেলায় প্রায় এক হাজার মানুষের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। জনবহুল এই জেলায় এই বৈষম্যের কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা পুলিশ প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​সীমান্তবর্তী চ্যালেঞ্জ ও অপরাধ দমন
​কুমিল্লা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এর সীমান্ত এলাকা দিয়ে নানা ধরনের চোরাচালানি পণ্য ও মাদক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচারের চেষ্টা চালান অপরাধীরা। সীমান্তবর্তী এই স্পর্শকাতর রুটগুলোতে কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। কিন্তু জনবলের অভাবে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় চেকপোস্ট স্থাপন এবং টহল জোরদার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

​জনবল বৃদ্ধির কেন প্রয়োজন?
​মাদক ও চোরাচালান রোধ: সীমান্তবর্তী এলাকায় সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট ও নজরদারি বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের বিকল্প নেই।
​গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের নিরাপত্তা: জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ব্যস্ততম মহাসড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবসময় স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত ফোর্সের উপস্থিতি প্রয়োজন।
​অপরাধ নিয়ন্ত্রণ: বিশাল জনগোষ্ঠীর আইনি সহায়তা ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আধুনিক ও গতিশীল পুলিশিংয়ের জন্য জনবল বৃদ্ধি অপরিহার্য।
​সুশীল সমাজের জোরালো দাবি
​সাধারণ জনগণ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, কুমিল্লার ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিশেষ জনমিতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে অবিলম্বে এখানে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো উচিত। তাদের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ ও জনবল বাড়ানো হলে কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় হবে এবং মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!