ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

লোহাগড়ায় সংবাদ সংগ্রহ কালে সাংবাদিকদের হেনস্তা করলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

জাহিদুল হক রনি, লোহাগাড়া (নড়াইল) | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম লোহাগড়ায় সংবাদ সংগ্রহ কালে সাংবাদিকদের হেনস্তা করলেন  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

নড়াইলের লোহাগড়ায়, লোহাগড়া-লক্ষীপাশা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহ কালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক  কর্তৃক  সাংবাদিকরা হেনস্থ শিকার হয়েছেন।  

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১ টার দিকে ওই বিদ্যালয়ে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে হেনেস্থার স্বীকার সাংবাদিকরা জানান।

লোহাগড়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও দৈনিক কালের সমাজ পত্রিকার লোহাগড়া উপজেলা  প্রতিনিধি জাহিদুল হক রনি, দৈনিক সমাবেশ পত্রিকার প্রতিনিধি মোঃ মান্নু মিয়া এবং এস এম হাবিবুর রহমান বালিকা বিদ্যালয়ের  ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক মোল্লা এ কে এম কামরুল হাসানের নিকট বিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতির সাথে কথা বলতে বলেন। এ সময় সাংবাদিকরা বিদ্যালয়টির সদ্য সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্ন-স্বাতের  (বাদী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম কামরুল ইসলাম)  মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন, এক পর্যায় তিনি সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়ে ওঠেন এবং শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীদের ডেকে রুমে তালাবদ্ধর নির্দেশ দেন। তাছাড়া তিনি সাংবাদিক সম্মুখে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে মব আরো বেগবান করার চেষ্টা করেন। তারপরও সাংবাদিকরা মামলার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন এবং সাংবাদিকদের দেখে নেওয়া হুমকি প্রদান করেন।

সুত্রে জানাগেছে ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক মোল্যা একেএম কামরুল হাসানের  দুর্নীতির অভিযোগ ও রয়েছে। তিনি সাবেক ইউএনও শাম্মী  কায়সার  ম্যাডামকে অজ্ঞাত রেখে, ম্যানুয়াল বহির্ভূতভাবে ট্রেড ইন্সস্ট্রাকটর মনোয়ার হোসেন কে ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক বানিয়েছে। আইন ভঙ্গ করে, অন্যান্য শিক্ষকদের না জানিয়ে, মনোয়ারকে সঙ্গে নিয়ে কাউন্সিল থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছে।

নিষিদ্ধ (গাইড) বই ধরিয়ে পাবলিশারদের নিকট থেকে এক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অ্যাডহক কমিটির সভাপতির সাথে হাত মিলিয়ে, সাবেক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব হস্তান্তর প্রাককালে কিছু  কাগজপত্র সরিয়ে, চাঁদাবাজির প্রস্তাব দিয়েছে এবং  তাকে মিথ্যা হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে । সাবেক প্রধান শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল ও হয়েছে।

এই প্রধান শিক্ষকের খুটির জোর কোথায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে! এঘটনায় লোহাগড়া  উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন সাথে সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি নড়াইলে আছি আমি বিষয়টি জেনে ব্যাবস্থা  নিচ্ছি।

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকরা ঘটনাটি জানালে তিনি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তদন্ত পূর্বক   ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্ত জামাল উদ্দিন সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা হলে তিনি বলেন, তথ্য সাংবাদিকদের দিতে হবে। বিষয় টি আমি দেখছি। এ ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক মহলে আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। এ সময়   সাংবাদিকরা  দাবি করেন তাদের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা  এবং  সাংবাদিকদের  নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখা।

গণমাধ্যমকর্মীরা, দ্রুত ওই প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবী করেন।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!