ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজধানীতে অন্তত ৪০০ হটস্পট, ১৪০০ ছিনতাইকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম রাজধানীতে অন্তত ৪০০ হটস্পট, ১৪০০ ছিনতাইকারী

রাজধানীর ৫০টি থানায় ছিনতাইয়ের হটস্পট রয়েছে অন্তত চারশ। আর তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০। সবচেয়ে বেশি তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী রয়েছে ওয়ারী এলাকায়। আর ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি সক্রিয় তেজগাঁও ও উত্তরায়। অপরাধ ঠেকাতে মামলা ও গ্রেপ্তার হলেও কমছে না ছিনতাই। পুলিশের দাবি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাদের তৎপরতার কোনো কমতি নেই।

দিন কিংবা রাত, প্রতিটি সময়ই আতঙ্কে কাটছে নগরবাসীর জীবন। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক, খুন এমন কোনো অপরাধ নেই, যা ঘটছে না এই শহরে। একজন ভুক্তভোগী বলেন, বাসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সিটে বসি। এরপর পকেটে হাত দিয়ে দেখি, আমার ফোনটি নেই।

গত ১৮ আগস্ট রাজধানীর চাঁদ উদ্যানের এক নম্বর সড়কে ঘটে এমনই একটি ঘটনা। মোটরসাইকেলে থাকা ব্যবসায়ী আবুল হোসেনকে হঠাৎ ঘিরে ধরেন তিন যুবক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চাপাতি দিয়ে আঘাত করে তার কাছ থেকে ৯৮ লাখ টাকা ও মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয় তারা।

আবুল হোসেন বলেন, তারা এসে আমাকে নামিয়ে চাপাতি দিয়ে আঘাত করেছে। গালিগালাজ করেছে। এরপর মোটরসাইকেলে উঠে মোবাইলটি নিয়ে যায়। বাম পকেটে টাকা ছিল, সেই টাকাও নিয়ে যায়।

রাজধানীতে এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হচ্ছে, নিয়মিত গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে অপরাধীদের। কিন্তু কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না ছিনতাইয়ে। এতে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

ডিএমপির তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১৭২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন চার শতাধিক ব্যক্তি। রাজধানীর ৫০টি থানায় ছিনতাইয়ের হটস্পট রয়েছে অন্তত ৪০০টি। আর তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০। সবচেয়ে বেশি ছিনতাইকারী রয়েছে ওয়ারী এলাকায়। আর ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি সক্রিয় তেজগাঁও ও উত্তরায়।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, প্রতিনিয়তই ছিনতাই হচ্ছে। এখন মনে হয়, আমরা জিম্মি হয়ে আছি। আরেকজন বলেন, আমি সারাক্ষণ ভয়ভীতির মধ্যে থাকি।

ছিনতাইয়ের কয়েকটি হটস্পট দিনে ও রাতে ঘুরে দেখেছে চ্যানেল 24। সংসদ ভবনের যে সড়কে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে প্রাণ হারান শিক্ষিকা রনজিলা পারভিন, সেই সড়কের ট্রাফিক বক্সের সামনে দু-একজন পুলিশ সদস্যের দেখা মিললেও আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি।

সড়কে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সবার আগে যারা পাশে দাঁড়ান, সেই ট্রাফিক বিভাগও ধুঁকছে জনবল সংকটে।

একজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বলেন, দুইজন লাগছে। তাই একজনকে বিশ্রামও দিতে পারছি না। আবার ধরেন, এ রকম কোনো ঘটনা ঘটল, আমি যদি মুভ করি, তাহলে কাউকে দিয়ে অন্য জায়গা সামলানোর সুযোগ হয়ে ওঠে না।

একই জায়গাগুলোতে রাত ১২টা পেরিয়ে গেলে দু-একটি চেকপোস্টে টহলরত পুলিশ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায় না।

রাতের দৃশ্য আরও ভয়াবহ। অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে নীরব ও নির্জন জায়গাগুলোতে ছিনতাইকারীরা ওঁৎ পেতে থাকে। সাধারণ মানুষকে দেখলেই ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তারা। কখনো ঝোপের ভেতরে লুকিয়ে, আবার কখনো সড়কে দলবদ্ধভাবে অবস্থান নিয়ে রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে নানা অপরাধে জড়ায় তারা। এদের বেশির ভাগই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য।

পুলিশ বলছে, পুরো শহর নিরাপদ রাখতে চেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই তাদের।

ডিএমপি ডিসি মো. আকতার হোসেন বলেন, রাতে কোথায় কোথায় চেকপোস্ট হবে বা কোথায় কোথায় মোবাইল পার্টি থাকবে, তা তদারকির জন্য আমাদের এসি, এডিসি ও ডিসিরা মাঠপর্যায়ে থাকেন। তারা কোনো ব্যত্যয় দেখলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন।

অপরাধ বিশ্লেষকের মতে, ছিনতাই কমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকলেও জামিন সিন্ডিকেটের কারণে তা কমানো যাচ্ছে না।

অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যারা অর্থ দিতে পারেন না, তাদেরকে বাকিতে বের করে আনা হয়। এসব অপরাধী বের হয়ে আবার নানা ধরনের অপরাধ করে। এই যে চক্র এদেরকে কারা জামিনে বের করে আনেন এবং তাদের অর্থ পরিশোধ করেন, সেটিও দেখতে হবে।

রাতে ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বেশি সংঘটিত হওয়ায় সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অপরাধ বিশ্লেষক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সূত্র : চ্যানেল২৪

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!