ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ফিফার অর্থ ভাগের দাবি, পাবে বাংলাদেশও

ক্রীড়া প্রতিবেদক | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম ফিফার অর্থ ভাগের দাবি, পাবে বাংলাদেশও

ফিফার ব্যাংক হিসাবে জমে থাকা বিপুল অর্থের একটি অংশ এবার সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে ব্যয়ের দাবি উঠেছে। ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৩ কোটি টাকা) করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ও উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কনফেডারেশন কনকাকাফ।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে পাঠানো চিঠিতে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন ও কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি বলেছেন, ২০২৩-২৬ চক্র শেষে ফিফার রিজার্ভ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফিফার প্রয়োজন মেটাতে এই রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না।

এই পরিস্থিতিতে ২০২৭-৩০ চক্রে প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের জন্য অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন দুই কনফেডারেশনপ্রধান। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, অর্থটি অবকাঠামো নির্মাণ ও ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে এটি ফিফার নিয়মিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’ উন্নয়ন তহবিলের অতিরিক্ত অর্থ হিসেবে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ফিফার আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বা এফএফই পরিকল্পনা। বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও টিকিটিং স্বত্ব ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি কোম্পানি গঠনের পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। ওই প্রতিষ্ঠানে বাইরের বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও ছিল। তবে বিভিন্ন কনফেডারেশন ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের তীব্র বিরোধিতার পর পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করা হয়।

এর আগে ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোকে জানিয়েছিলেন, এফএফই পরিকল্পনা অনুমোদিত হলে তারা উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত অর্থ পেতে পারে। তবে উয়েফা ও কনকাকাফের নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফিফার প্রকাশিত আর্থিক হিসাব ও বাজেট পর্যালোচনা করে তাদের মনে হয়েছে, সদস্যদের উন্নয়ন খাতে আরও অর্থ দিতে ওই বাণিজ্যিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ফিফার রিজার্ভ ইতিমধ্যেই কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং এই অর্থ ফুটবল ও ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের স্বার্থে ব্যবহারের জন্যই রাখা হয়েছে। দুই কনফেডারেশন মনে করে, ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রেখেও রিজার্ভের একটি অংশ সদস্যদের মধ্যে দায়িত্বশীলভাবে বিতরণ করা সম্ভব।

শুধু অর্থ ছাড় নয়, ফিফার আর্থিক রিজার্ভ নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার দাবিও জানিয়েছে উয়েফা ও কনকাকাফ। তাদের প্রস্তাব, ফিফার আর্থিক হিসাব এবং বাজেট তৈরিতে ব্যবহৃত মূল তথ্য ও অনুমানগুলো পর্যালোচনার আওতায় আনতে হবে। এরপর ফিফার আর্থিক অবস্থার পূর্ণ চিত্র পাওয়া গেলে আরও বড় অঙ্কের অর্থ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে দেয়া সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করতে পারে ফিফা কাউন্সিল।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!