এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে শুরু হয়েছিল যে রেকর্ডের গল্প, এবার সেটি নতুন করে লেখার সুযোগ বার্সেলোনার সামনে। মৌসুমের প্রথম ছয় প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে দারুণ ছন্দে থাকা হান্সি ফ্লিকের দল এখন তাকিয়ে সপ্তম ম্যাচের দিকে। রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে জয় পেলেই ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মৌসুমের শুরুতে টানা সাত ম্যাচ জয়ের নতুন নজির গড়বে কাতালান ক্লাবটি।
মৌসুমের শুরুটা যেন স্বপ্নের মতোই হয়েছে বার্সেলোনার। ছয় ম্যাচের প্রতিটিতেই জয়, যার পাঁচটি লা লিগায়। এলচে, আথলেটিক ক্লাব, রায়ো ভায়েকানো, ভ্যালেন্সিয়া ও লেভান্তেকে হারিয়ে লিগে পূর্ণ ১৫ পয়েন্ট তুলে নিয়েছে তারা। এরপর চ্যাম্পিয়নস লিগের অভিষেকেও ফেইনুর্দের বিপক্ষে এসেছে জয়।
এই ধারাবাহিক সাফল্য শুধু পয়েন্ট তালিকায় বার্সাকে এগিয়ে দেয়নি, দলটির আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে কয়েক গুণ। ছয় ম্যাচে ছয় জয় নিয়ে লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা এখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে তিন পয়েন্ট এগিয়ে। মৌসুমের এতটা শুরুতেই তাই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের জানান দিয়েছে ফ্লিকের দল।
তবে এবারের শুরুটা বার্সার ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। প্রায় ১২৫ বছরের ক্লাব ইতিহাসে এর আগে মাত্র তিনবার কোনো বার্সেলোনা দল মৌসুমের প্রথম ছয় ম্যাচ জিতেছিল। প্রথমবার ১৯২৯-৩০ মৌসুমে জেমস বেলামির অধীনে, এরপর ১৯৬০-৬১ মৌসুমে লিউবিসা ব্রোসিকের দল এবং সর্বশেষ ২০১৮-১৯ মৌসুমে আর্নেস্তো ভালভার্দের বার্সা এই কীর্তি গড়ে।
কিন্তু সেই তিন দলের কেউই পারেনি সপ্তম ম্যাচে জয় তুলে নিতে। ১৯২৯-৩০ মৌসুমের দলটি আথলেটিক ক্লাবের সঙ্গে আটকে যায়। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে হোঁচট আসে আথলেতিকো মাদ্রিদের কাছে। আর ২০১৮-১৯ মৌসুমে জিরোনার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে রেকর্ডটি আর বাড়াতে পারেনি ভালভার্দের দল।
সর্বশেষ লেভান্তের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়েও বার্সার আক্রমণভাগের ধার স্পষ্ট হয়েছে। জোড়া গোল করে আবারও আলো কেড়েছেন লামিনে ইয়ামাল। তার সঙ্গে স্কোর শিটে নাম তুলেছেন জাভি এসপার্ত ও করিম আদিয়েমি।
এখন সামনে শুধু আরেকটি ম্যাচ। প্রতিপক্ষ রেসিং সান্তান্দার। সেই ম্যাচে জয় মানেই বার্সার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। মৌসুমের শুরুতে টানা সাতটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ জয়ের ইতিহাস গড়বে দলটি।
কালের সমাজ/এসআর

