কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন রিফাত জাহান। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন পরিবার, আত্মীয়স্বজনসহ নিজ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তার যোগদানে আনন্দিত স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আশা করছেন, সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি মনোহরগঞ্জের মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
রিফাত জাহানের শিকড় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের রাণীদিয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের হাজী শহীদুর রহমানের পরিবারের সন্তান। তিন ভাই ও সাত বোনের মধ্যে তিনি একজন। শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে তার পরিবারের সদস্যদেরও রয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
রিফাত জাহানের পাঁচ বোনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তার দুই ভাইও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। অপর এক ভাই ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। এছাড়া বড় দুই ভাইয়ের স্ত্রীও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে পরিবারটির সঙ্গে শিক্ষা ও শিক্ষকতার একটি দীর্ঘ ও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন রিফাত জাহান। তিনি অরুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর ভৈরবের রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ অর্জন করেন।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও তার কৃতিত্ব অব্যাহত থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাতালিকায় তিনি পঞ্চম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ৪০তম স্থান অর্জন করে ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন রিফাত জাহান। উভয় পর্যায়েই তিনি ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড অর্জন করেন। ধারাবাহিকভাবে মেধা ও পরিশ্রমের পরিচয় দিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করে প্রশাসন ক্যাডারে কর্মজীবনে এগিয়ে যান তিনি।
রিফাত জাহানের নতুন দায়িত্ব গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার নিজ এলাকা রাণীদিয়াসহ সরাইলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, গ্রামের একজন মেধাবী সন্তান প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হওয়ায় এটি পরিবার ও এলাকার জন্য গর্বের বিষয়।
পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকেই রিফাত জাহান ছিলেন অধ্যবসায়ী ও দায়িত্বশীল। পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ এবং কঠোর পরিশ্রমই তাকে ধাপে ধাপে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়েছে। তার সাফল্যে পরিবারের সদস্যরা যেমন আনন্দিত, তেমনি গর্বিত নিজ এলাকার মানুষও।
শুভাকাঙ্ক্ষীরা আশা করছেন, শিক্ষাজীবনে মেধা ও নিষ্ঠার যে পরিচয় রিফাত জাহান দিয়েছেন, কর্মজীবনেও তার প্রতিফলন ঘটবে। নতুন কর্মস্থল মনোহরগঞ্জে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা, সরকারি সেবাকে সহজলভ্য করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
তাদের ভাষ্য, একজন দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে রিফাত জাহান মনোহরগঞ্জের প্রশাসনে ইতিবাচক পরিবর্তনের ভূমিকা রাখবেন। একই সঙ্গে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, তিনি সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন এবং সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে শুনে সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
রিফাত জাহানের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তার কর্মজীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তার সততা, মেধা ও দক্ষতার সমন্বয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আরও গতিশীল হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন পরিবার, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।
কালের সমাজ/এসআর

