ঢাকা সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
এশিয়া কাপ

বাংলাদেশের হাসি কেড়ে নিলেন হর্ষিতা

ক্রীড়া প্রতিবেদক | সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:০৭ এএম বাংলাদেশের হাসি কেড়ে নিলেন হর্ষিতা

ধারাভাষ্যকার বলছিলেন, ‘১৯তম ওভারের শেষ বলটা বড় ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। হর্ষিতা সামারাবিক্রমা নিজের কাছে স্ট্রাইক রাখবেন নাকি ভিন্ন কিছু করবেন?’  জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার ৭ বলে প্রয়োজন কেবল ৮ রান। ব্যবধান বড় নয় কিন্তু শেষ ওভারে নাটকীয় কিছু হলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারে। আত্মবিশ্বাসী হর্ষিতা ম্যাচটা ততদূর টানতে চাননি। তাইতো নাহিদা আক্তারের বল ডাউন দ্য উইকেটে এসে লং অনের সীমানা দিয়ে বাইরে পাঠালেন, ছক্কা।

স্কোরবোর্ডে এখন একেবারেই সহজ সমীকরণ। ৬ বলে দরকার ২ রান। মোস্তারির ২০তম ওভারের প্রথম ২ বলে সেই সমীকরণ মিলিয়ে নারীদের এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা।  

দুবাইয়ে তাদের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ১১৪ রান করে। স্কোরবোর্ডে বড় পুঁজি না পেলেও বোলাররা লড়াই করলেন সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে। ৪৪ রানে শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেট তুলে নেন মারুফা, সুলতানা খাতুনরা। কিন্তু এরপরই প্রতিরোধ গড়ে শ্রীলঙ্কা। লেট মিডল অর্ডার ব্যাটাররা অল্প অল্প করে এগিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটের দারুণ জয় এনে দেন।  

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের পুরোনো সমস্যা আজও কাটেনি। ভালো শুরুর পর হুট করে পথ হারিয়ে ফেলে দল। এরপর সেখান থেকে উদ্ধার হতে আক্রমণ বাড়ায়। তাতে মেলেনা প্রত্যাশিত সাফল্য। উল্টো উইকেট হারিয়ে চাপেও পড়ে। আজও তেমন কিছুরই দেখা মিলল।

শুরুতে দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ৩১ রানের জুটি গড়েন। এরপর সময়ে সঙ্গে কমতে থাকে রান তোলার গতি। পাওয়ার  প্লে’তে বাংলাদেশের রান ৩৭। ১০ ওভারে ৫২। পরের ৫ ওভারে যোগ হয় ৩১ এবং ডেথ ওভারে আরও ৩১। তাতে বলার মতো পুঁজি পায় দল।

ব্যাটিংয়ে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করেন সোবহানা মোস্তারি। ৪১ বলে ৪ বাউন্ডারিতে সাজান ইনিংসটি। এছাড়া ২৬ বলে ২৬ রান করেন দিলারা আক্তার। ১৪ রানের দুইটি ইনিংস খেলেন জুয়াইরিয়া ও ফাহিমা। অধিনায়ক নিগার সুলতানা (৪) ও স্বর্ণা আক্তার (৯) ভালো করতে পারেননি। তাতে মিডল অর্ডারে ভুগেছে দল।

শ্রীলঙ্কার হয়ে ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সেরা ছিলেন চামুদি প্রাবোদা। ২ উইকেট নেন সুগানধিকা কুমারি।

বাংলাদেশের হাসি কেড়ে নিলেন হর্ষিতা

বোলিংয়ে শুরুতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন মারুফা। প্রথম ওভারে তার শিকার শ্রীলঙ্কার সেরা ব্যাটার ও অধিনায়ক চামারি আত্তাপাত্তু। পরের ওভারে ইমিশা দুলানির উইকেট উপচে ফেলেন ডানহাতি পেসার। এরপর সুলতান খাতুন ও রিতু মনি আক্রমণে এসে মিডল অর্ডারের দুই উইকেট তুলে নেন। এছাড়া ফাহিমার সরাসরি থ্রোতে শ্রীলঙ্কা হারায় আরও একটি উইকেট। তাতে শ্রীলঙ্কা ৫ উইকেট হারায় ৪৪ রানে।

সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়ে হর্ষিতা সামারাবিক্রমা ও নিলাকশিকা সিলভা। দুজন ৩৮ রান যোগ করেন। মারুফা নিজের শেষ ওভার করতে এসে নিকালশিকাকে বোল্ড করলেও হর্ষিতাকে ফেরানোর উত্তর কারো জানা ছিল না। তার ৩৭ বলে ৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংসে গড়ে দেয় ব্যবধান। ৪ চার ও ২ ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়ে বিজয়ের হাসি হেসে মাঠ ছাড়েন বাঁহাতি ব্যাটসশ্যান। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি।

মারুফা ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান। কিন্তু হর্ষিতার ধ্রুপদী ব্যাটিংয়ে তার হাসিটাও আড়াল হয়ে যায়।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!