আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পর জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা। সোমবার (৩১ আগস্ট) সামাজিক
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা।
তবে ফাইনালের পরপরই অবসরের ঘোষণা দেননি মেসি। ২১ জুলাই এক বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন, ফাইনালের পরের হতাশা কাটিয়ে উঠতে তার কিছুটা সময় প্রয়োজন। পাশাপাশি বিশ্বকাপে দলের অর্জন ও সমর্থকদের ভালোবাসার স্মৃতি ধরে রাখার কথাও বলেছিলেন তিনি।
এরপর গত ৮ আগস্ট মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি ৬৮ বছর বয়সে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর নিজের ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছিলেন মেসি। শেষ পর্যন্ত এবার জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানালেন তিনি।
নিজের চিঠিতে মেসি জানান, দীর্ঘ সময় চিন্তাভাবনার পরই তিনি অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিদ্ধান্তটি তার জন্য সহজ ছিল না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিই উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন তিনি।
আর্জেন্টিনার হয়ে প্রতিটি ম্যাচেই নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন মেসি। জাতীয় দলের জার্সি তার কাছে সবসময় ভালোবাসার প্রতীক ছিল। তবে এখন মনে হচ্ছে, দলের জন্য তার দেওয়ার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন তিনি।
সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেসি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছরের পথচলায় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা তিনি কখনো ভুলবেন না। ভবিষ্যতে মাঠে খেলোয়াড় হিসেবে নয়, একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবেই জাতীয় দলকে সমর্থন করবেন তিনি।
পরিবার, সতীর্থ, কোচ ও জাতীয় দলের কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে অর্জিত সাফল্য ও স্মৃতিগুলোকে জীবনের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
চিঠির শেষদিকে নিজের দেশ ও জাতীয় দলের প্রতি গভীর আবেগ প্রকাশ করে মেসি জানান, আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম নেওয়াকে তিনি সৌভাগ্য মনে করেন। শেষ করেছেন ‘গো আর্জেন্টিনা!’ বার্তা দিয়ে।
দুই দশকের বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক পথচলা শুরু হয়। এরপর প্রায় দুই দশকে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফাইনালিসিমাসহ একাধিক বড় শিরোপা জিতেছেন তিনি। গড়েছেন অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় রেকর্ড।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করে দীর্ঘদিনের বড় অপূর্ণতা পূরণ করেন মেসি। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপেও দলকে ফাইনালে নিয়ে যান তিনি। আসরে আট গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
তবে ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন শেষ হয় আর্জেন্টিনার। সেই ম্যাচের কয়েক সপ্তাহ পরই জাতীয় দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান মেসি।
ফলে স্পেনের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালটিই আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাচ্ছে। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবলে একটি দীর্ঘ ও গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো।
কালের সমাজ/কে.পি

