ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
উখিয়ায় স্কুলছাত্র অপহরণ

আড়াই মাসেও সন্ধান নেই, সন্তানের অপেক্ষায় পাগলপ্রায় পিতামাতা

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার | আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১০:২০ পিএম আড়াই মাসেও সন্ধান নেই, সন্তানের অপেক্ষায় পাগলপ্রায় পিতামাতা

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকায় অপহরণ, নিখোঁজ ও মুক্তিপণসংক্রান্ত ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছেই। এবার প্রায় আড়াই মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে এক স্কুলছাত্র। আদরের সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা তার পরিবার। সন্তান জীবিত ও নিরাপদ আছে কি না—এই উৎকণ্ঠায় দিন-রাত পার করছেন বাবা-মা। নিখোঁজ কিশোরের নাম মছুদ মোহাম্মদ আরবিত (১৫)। সে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং আবুল কাশেম নুর জাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। তার বাড়ি রত্নাপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জাফরপল্লান পাড়ায়। সে স্থানীয় বাসিন্দা আফাজ উদ্দিনের ছেলে। পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন ২০২৬ দুপুরে কোটবাজার এলাকা থেকে আরবিত নিখোঁজ হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আরবিতের মা কাজল আকতার বাদী হয়ে গত ১৭ জুলাই উখিয়া থানায় জিআর মামলা নং-৪১২/২৬ দায়ের করেন। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার আগে মামলার ১ নম্বর আসামি মধ্য রত্নাপালং গ্রামের ইব্রাহিম বিভিন্ন সময়ে আরবিতকে আইফোন, টাকা-পয়সাসহ নানা উপহার ও প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতেন। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
 

মামলার ২ নম্বর আসামি রুমখাঁ হাতির ঘোনার সেলিম পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেও মূল আসামি ইব্রাহিম কাতার যাওয়ার কথা বলে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
নিখোঁজ কিশোরের পরিবারের আশঙ্কা, আরবিতকে কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এমনকি অভিযুক্তদের সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কিংবা আন্তঃসীমান্ত মানব পাচারচক্রের কোনো ধরনের যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এদিকে সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে আরবিতের বাবা-মায়ের। কখনো থানায়, কখনো পরিচিতজনদের কাছে, আবার কখনো সম্ভাব্য 

বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সন্তানের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তাদের অপেক্ষা এখন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। একটি পরিবারের কাছে প্রিয় স্বজনের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণা কতটা গভীর, তা ভুক্তভোগী পরিবার ছাড়া অন্য কারও পক্ষে উপলব্ধি করা কঠিন। প্রায় আড়াই মাস ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্র আরবিতকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি কিশোরটিকে কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই রহস্য উদঘাটনের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান বলেন, “ এ ঘটনা আমি থানায় যোগদানের আগের। তবে আমরা নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি।”

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!