নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দায়িত্ব পাওয়ার পরও ভুলে যাননি সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের এমপি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত। নির্বাচনী প্রচারণার সময় স্থানীয়দের দেওয়া আশ্বাসের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রতনকান্দি পুরাতন বাজারসংলগ্ন ব্রিজের দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্রোচ সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেন তিনি। বর্তমানে সড়কটির মেরামতকাজ প্রায় শেষের পথে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর নেওয়া উদ্যোগগুলোর মধ্যে রতনকান্দি ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়ক মেরামতের বিষয়টি ছিল সর্বপ্রথম। এ কাজ বাস্তবায়নে এলজিইডি দপ্তরে প্রথম ডিও (D.O.) লেটার দেন ড. এম. এ. মুহিত। তাঁর দেওয়া ডিও লেটারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সড়কটি মেরামতের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এলজিইডি শাহজাদপুর অফিস সূত্রে জানা গেছে- রতনকান্দি ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়ক মেরামতকাজের চুক্তিমূল্য ছিল ৩৩ লাখ ৮৬ হাজার ১৩৫ টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাহান এন্টারপ্রাইজ। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা থাকলেও ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু সড়কের কার্পেটিং ও রঙের কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে এসব কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে রতনকান্দি এলাকায় গেলে স্থানীয় দোকানদার নাঈমুল হোসেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিতের কাছে ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়কের দুরবস্থার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সময় তিনি সড়কটি মেরামতের আশ্বাস দেন।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে সেগুলোর অনেকটাই বাস্তবায়িত হয় না- এমন অভিযোগ রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে স্থানীয়দের মতে, ড. এম. এ. মুহিত এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পাওয়ার পরই তিনি তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে রতনকান্দি ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়কের ঢালু অংশটি খানাখন্দে ভরা ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সড়কটি সমতল থেকে অতিরিক্ত উঁচু ও বেহাল অবস্থার কারণে ব্রিজ দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এ সড়কে একাধিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান। বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করেও দীর্ঘদিন সড়কটি মেরামতের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি।
রতনকান্দি গ্রামসহ রুপবাটি ও গালা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। পাশাপাশি আশপাশের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত সড়কটি ব্যবহার করে। ফলে সড়কের বেহাল অবস্থায় শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। নির্বাচনের সময় বিষয়টি ড. এম. এ. মুহিতের নজরে আনা হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সেই দোকানদার মো: নাঈমুল হোসেন বলেন, “অনেক সময় নির্বাচনের আগে দেওয়া কথা পরে আর মনে থাকে না। কিন্তু ড. এম. এ. মুহিতের ক্ষেত্রে আমরা তার ব্যতিক্রম দেখছি। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পরই রতনকান্দি ব্রিজের সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন।”
মেরামতকাজের বড় অংশ শেষ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে যথাযথ মান বজায় রাখা হবে।
কালের সমাজ/এসআর

