ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড ১৮ নং চরআলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি এলাকার ২৭ জন গণ্যমান্য ব্যক্তির স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয় এবং উপস্থিত শত শত ভোটারের মতামত নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয়রা সর্বসম্মতিক্রমে ১৮ নং চরআলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি পুনর্বহালের দাবি জানান।
স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ইয়াছমিন বেগম বলেন, স্থানীয় জনমতের গুরুত্ব বিবেচনা না করে সম্প্রতি দীর্ঘ ৩০-৪০ বছরের পুরোনো ১৮ নং চরআলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি বাতিল করে দক্ষিণ চরআলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রটি ৫ নং ওয়ার্ডের এক প্রান্তে, পার্শ্ববর্তী রাজিবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত। ফলে ওই কেন্দ্রে ভোটারদের যাতায়াতে ভোগান্তি ও নানা ধরনের অসুবিধা হবে। এ কারণে পুরোনো ১৮ নং চরআলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মতিউর রহমান বলেন, পুরোনো ভোটকেন্দ্রটি পুনর্বহাল করা হলে উৎসবমুখর পরিবেশে এলাকার সকল ভোটার সহজে ও সঠিকভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তিনি ১৮নং চরআলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি পুনর্বহালের দাবি জানান।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোহাম্মদ হেলাল বলেন, পুরোনো ভোটকেন্দ্রটি ভোটারদের জন্য অধিক সুবিধাজনক। এ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হলে এলাকার সকল ভোটার নির্বিঘ্নে ও সঠিকভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তাই তিনি কেন্দ্রটি পুনর্বহালের দাবি জানান।
সরেজমিন তদন্ত শেষে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ১৮ নং চরআলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ চরআলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—দুইটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা
বলেন, “ভোটকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ওই নীতিমালার আলোকে যেটা সঠিক, সেটাই আমি সিদ্ধান্ত নেব।”
কালের সমাজ/কে.পি

