ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বুতুনী খালে সেতু নেই, ৭–৮ কিলোমিটার ঘুরে কৃষিপণ্য নিতে হয়

মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম বুতুনী খালে সেতু নেই, ৭–৮ কিলোমিটার ঘুরে কৃষিপণ্য নিতে হয়

 সেতু নেই। খালের দুই পাড়ের মানুষের চলাচলের ভরসা ঘুরপথের কাঁচা সড়ক। কৃষিপণ্য ও কাঁচামাল হাট-বাজারে নিতে ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে ছয় গ্রামের মানুষকে। এতে বাড়ছে সময় ও পরিবহন খরচ। খালের ওপারে থাকা কবরস্থানে মরদেহ নেওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে ভোগান্তি। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের মধ্যে ১০ মিটার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তর। তবে প্রস্তাব পাঠানোর সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারেননি উপজেলা প্রকৌশলী। সেতুটির সম্ভাব্য ব্যয়ও এখনো নির্ধারণ হয়নি। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন।
 

শিবালয় উপজেলার বুতুনী মৌজায় বড় বুতুনী বাজারসংলগ্ন আসমা বেগমের বাড়ির কাছে বিবিরাস্তী খালের ওপর সেতুটি নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের। সেতুটি হলে শিমুলিয়া, ছোট বুতুনী, বিল বড়াইল, কোটাধারা, টাংগুটিয়া ও বেজপাড়ার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। কৃষিপণ্য দ্রুত হাটে নেওয়ার পাশাপাশি বরংগাইল ও মহাদেবপুর বাজারে ফসল বাজারজাত করাও সহজ হবে। স্থানীয়রা জানান, খালের ওপর সেতু না থাকায় কৃষিপণ্য ও কাঁচামাল নিয়ে ঘুরপথে যেতে হয়। ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাড়ি দিতে হয়। বর্ষায় এ দুর্ভোগ আরও বাড়ে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বেড়ে যায়।
 

কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, “ব্রিজ না থাকায় চাষের উপযুক্ত সময়ে জমিতে ট্রাক্টর নিতে পারি না। এক মণ ধান ক্ষেত থেকে বাড়িতে আনতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা খরচ হয়। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। ফসল আনতেই যদি এত খরচ হয়, তাহলে লাভ থাকে না।” খালের ওপারে রয়েছে বুতুনী পশ্চিমপাড়া কবরস্থান। স্থানীয় এক স্বজন বলেন, “কেউ মারা গেলে মরদেহ কাঁধে করে খাল পার হতে হয়। বর্ষায় পানিতে ভিজে মরদেহ নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত বছর আমার এক আত্মীয়ের মরদেহ এভাবেই নিয়ে গিয়েছিলাম।” স্থানীয় প্রতিনিধি সোবজেল জানান, সেতু নির্মাণের জন্য ২০২২, ২০২৩ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। একাধিকবার সরেজমিন পরিদর্শন হলেও এতদিন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর। উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা অনেকগুলো প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছি। 

ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেতু নির্মাণ প্রকল্পেও প্রস্তাব পাঠিয়েছি।” তিনি জানান, ‘বড় বুতুনী বাজার (কবরস্থান)-ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ভায়া বিবিরাস্তী জিপিএস সড়ক’ নামে বিবিরাস্তী খালের ওপর ১০ মিটার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এর পর নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, মানিকগঞ্জ বরাবর পাঠানো হয়েছে। তবে প্রস্তাব পাঠানোর সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারেননি তিনি। সম্ভাব্য ব্যয় জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, এখনো ব্যয় নির্ধারণ হয়নি। প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যয় পাঠানোর নিয়ম নেই বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রাণী কর্মকার বলেন, “আমি এ বিষয়ে অবগত নই।” উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার চৌধুরীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে এবং মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিনের আবেদনের পর সেতুর প্রস্তাব পাঠানোর কথা বলা হলেও সেটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন কোন পর্যায়ে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!