ভারতের রাজধানী দিল্লির ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় এবার নোটিসের তালিকায় উঠে এসেছেন দেশটির একাধিক শীর্ষ রাজনীতিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানি, সাবেক উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়, কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল, পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ প্রায় ৩১ লাখ ৬৩ হাজার ভোটারকে নথি যাচাইয়ের জন্য নোটিস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নোটিসের কারণ হিসেবে কোথাও ২০০২ সালের এসআইআর তালিকার সঙ্গে বর্তমান তথ্যের ম্যাপিং না হওয়া, আবার কোথাও ভোটার তথ্যের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা অসংগতির কথা বলা হয়েছে। কমিশনের ভাষ্য, এটি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; ভোটার তালিকা নির্ভুল ও হালনাগাদ রাখতেই সংশ্লিষ্টদের নথি যাচাই করা হচ্ছে। এদিকে গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকায় আগের প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ৭২২ জনের নাম নেই। নির্বাচন কর্মকর্তাদের হিসাবে, বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের সময় অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা ডুপ্লিকেট ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এসব নাম খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে খসড়া তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই ভোটাধিকার চূড়ান্তভাবে বাতিল নয়। সংশ্লিষ্টরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি ও প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
নোটিস পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জয়শঙ্কর ও তার স্ত্রী কিয়োটো এস জয়শঙ্করের নাম রয়েছে যাচাইয়ের জন্য। ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে ম্যাপিং না হওয়ায় কপিল সিবাল ও বিক্রম মিশ্রির নামও এসেছে। আদভানি, তার মেয়ে প্রতিভা আদভানি ও পুত্রবধূ গীতিকা আদভানির নামও রয়েছে নোটিসের তালিকায়।
অন্যদিকে কেজরিওয়াল ও তার পরিবারের চার সদস্যের নাম ‘আনম্যাপড উইথ লাস্ট এসআইআর’ শ্রেণিতে থাকায় তাদেরও নোটিস দেওয়া হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নামও বয়সসংক্রান্ত তথ্যের অসংগতির কারণে নোটিস তালিকায় এসেছিল। পরে তাঁর নথি যাচাই করে নাম চূড়ান্ত তালিকায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এসআইআর নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্নও উঠেছে। ৩১ লাখের বেশি ভোটারকে নোটিস দেওয়ার কারণ ও মানদণ্ড প্রকাশের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন হয়েছে। এ বিষয়ে ২২ সেপ্টেম্বর শুনানির কথা রয়েছে।

