রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাত কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা বাড়াতে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসার পাশাপাশি কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
গত ২ মে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ৪০ দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে গত ২৫ জুন খননকাজ সম্পন্ন হয়। প্রকল্পের আওতায় ঝিকরা ইউনিয়নের সাত কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী খালের তলদেশ ১২ ফুট প্রশস্ত, গভীরতা ১০ ফুট এবং ওপরের অংশ ৩০ ফুট প্রশস্ত রেখে খননকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রকল্পের মোট বরাদ্দের মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ৮৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খননকাজ শেষে শ্রমিক মজুরি খাতের অব্যয়িত ২৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
তবে খাল পুনঃখনন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একটি পক্ষের কাছ থেকে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, শ্রমিকদের মজুরি এবং খননকাজের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম হয়েছে এবং শ্রমিকদের প্রাপ্য মজুরি থেকেও কেউ কেউ বঞ্চিত হয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা নূর-এ-শেফা অভিযোগগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনেই প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্ধারিত প্রস্থ ও গভীরতা বজায় রেখে খননকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বরাদ্দের একটি অংশ ব্যয় না হওয়ায় তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে। শ্রমিকদের অংশগ্রহণে কোনো ঘাটতি ছিল না এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদের মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে বলেও তারা জানান।
এদিকে খাল পুনঃখননের সুফল পেতে শুরু করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। এতে অনেক কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকত। এখন খাল পুনঃখননের ফলে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং খালের পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাবে বলে আশা করছেন তারা।
ঝিকরা গ্রামের কৃষক ও খনন প্রকল্পের শ্রমিক আজাদুল ইসলাম বলেন, ‘খাল পুনঃখননের মধ্য দিয়ে কৃষকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আমিও খননকাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছি। আমার মতো অনেক শ্রমিক ন্যায্য মজুরি পেয়েছেন।’
ঝিকরা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘খাল পুনঃখননের আগে যেখানে পানি জমে থাকত, এখন সেখানে আর পানি জমছে না। ফলে কৃষকরা সহজেই জমিতে ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। এটি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে।’
ঝিকরা খাল পুনঃখনন প্রকল্পের সভাপতি মোবারক হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘বর্তমান সরকারের উদ্যোগে আমরা জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি নামত না। এ কারণে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। কৃষকবান্ধব এই উদ্যোগের ফলে এখন আর সেই ভোগান্তি থাকবে না।’
স্থানীয়দের মতে, সাত কিলোমিটার খাল পুনঃখননের ফলে ঝিকরা ইউনিয়নের কৃষি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি সেচ সুবিধা বাড়লে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমার এবং অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসার সুযোগ তৈরি হবে।
কালের সমাজ/কে.পি

