ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

দুধের অভাবে ৭ মাসের হুসাইন, দাদির আকুতি শুনে পাশে দাঁড়ালেন ডা. জুবাইদা রহমান

কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি, খুলনা | সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম দুধের অভাবে ৭ মাসের হুসাইন, দাদির আকুতি শুনে পাশে দাঁড়ালেন ডা. জুবাইদা রহমান

সুন্দরবনের কাছাকাছি খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রিরিফলতলা গ্রামের অসহায় পরিবারের ৭ মাস বয়সী শিশু হুসাইন। অসুস্থ মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় শিশুটির জন্য প্রয়োজনীয় দুধের ব্যবস্থা করতে পারছিল না পরিবার। এমনকি পরিবারের একমাত্র অবলম্বন বৃদ্ধ দাদির সামান্য আয় দিয়ে দু’বেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে শিশুটির দুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা ছিল প্রায় অসম্ভব।

শিশুটিকে নিয়ে পরিবারের অসহায়ত্বের খবর ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের। তিনি শিশুটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে হুসাইন ও তার পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন।

জানা যায়, হুসাইনের বাবা ও মা দুজনেই শারীরিকভাবে অসুস্থ। পরিবারের একমাত্র ভরসা বৃদ্ধ দাদি। তিনি ভিক্ষা করে কোনোভাবে সংসার চালান। পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে শিশুটির জন্য দুধ কেনা এবং তার মায়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় শিশুটিকে অনুপযুক্তভাবে লবণ পানি খাওয়ানো হচ্ছিল। পরবর্তীতে শিশুটির মধ্যে গুরুতর অপুষ্টির পাশাপাশি ত্বকের সমস্যা ও মুখে ক্যান্ডিডিয়াসিসের উপসর্গ দেখা দেয় বলে পরিবার জানায়।

এ পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ফাউন্ডেশনের সদস্য ডা. এম. আর. হাসানের তত্ত্বাবধানে হুসাইন ও তার পরিবারকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটির চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় দুধ এবং পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়।

শিশুটির দাদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি ভিক্ষা করে সংসার চালাই। বাচ্চাটার দুধ কেনার সামর্থ্য আমার নেই। আমি আমার নাতিটাকে বাঁচাতে চাই।" একই সঙ্গে তিনি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিষয়টি কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।এখানে উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!