ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

মাদ্রাসাছাত্রকে হাত-পা বেঁধে পেটালেন তিন শিক্ষক

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ১, ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম মাদ্রাসাছাত্রকে হাত-পা বেঁধে  পেটালেন তিন শিক্ষক
ছবি সংগ্রহ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক, মানসিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আলোচিত কয়েকটি ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে কিছু মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনা শিশুর সুরক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর তদারকি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

এমন অবস্থায় দক্ষিণের পিরোজপুর জেলার  জিয়ানগর উপজেলায় একটি  মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রকে হাত-পা বেঁধে পেটানোর ঘটনা সামনে আসলো।  অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদ্রাসার তিন শিক্ষক মিলে শিশু শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছেন।

 শিক্ষার্থী জুলহাস সরদার জিয়ানগরের পত্তাশী গ্রামের মিরাজ সরদারের ছেলে। সে পত্তাশী দারুল উলুম নেছার উদ্দিন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে প্রায় দুই বছর ধরে অধ্যয়ন করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সহপাঠীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার অভিযোগে এক সপ্তাহ আগে মাদ্রাসার একটি কক্ষে তাকে হাত-পা বেঁধে বেত দিয়ে পেটানো হয়। এতে মাদ্রাসার তিন শিক্ষক নাজিমা তালিম, সাকিব হোসেন ওসমান হোসেন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি জানানো হলে শিশুটির চাচা জামাল সরদারকে ডেকে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সাত দিন পর মঙ্গলবার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের নিয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আলী হোসেন, পত্তাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কবির হোসেন খান এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় এবং শিশুটির চিকিৎসা খরচ হিসেবে হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার স্থানীয়রা। তাদের মাদ্রাসা কি নিপিড়নের ঠিকানা। তারা আরও প্রশ্ন তোলেন অভিযুক্ত শিক্ষকদের বৈঠকে ডাকা হয়নি বলে জানা গেছে।

 শিশুটির চাচা জামাল সরদার বলেন, আমার ভাতিজাকে নির্যাতনের বিষয় জানালে তারা শুধু ওষুধ খরচ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো শিক্ষকের শাস্তি হয়নি। এলাকাবাসীর চাপে আমরা সালিশের রায় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি।  

সালিশকারীদের একজন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আলী হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী খারাপ কাজ করায় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং পরে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনার পর বিষয়টি জানতে পেরে সভা করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

কালের সমাজ/এএইচবি

 

Link copied!