চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেছে। এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ২০০৭ সালের পর এটাই সবচেয়ে কম পাসের হার। ওই বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
এবারের ফলাফলে বড় ধরনের ধসের পেছনে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক বেশি অনুত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পাসের হার মাত্র ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অর্থাৎ মানবিক বিভাগে পরীক্ষা দেওয়া প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনের বেশি উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল হওয়ায় এসব বিষয়ে বেশি ফেল করেছে। তাদের অনুত্তীর্ণ হওয়ার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে। এর ফলে গড় পাসের হার যেমন কমেছে, তেমনি গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বোর্ড চেয়ারম্যানরাও এ বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেন।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। ফলে এবার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।
মানবিকে প্রতি ১০০ জনে ৫১ জন ফেল
বিভাগভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে মানবিকের শিক্ষার্থীরা। এ বছর মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল সবচেয়ে বেশি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন। গড় পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আর ফেলের হার প্রায় ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ, মানবিকের প্রতি ১০০ জন পরীক্ষার্থীর ৫১ জনের বেশি ফেল করেছে।
বিজ্ঞানে পাসের হার ৮০.৬৪ শতাংশ
এবার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে এ বছর পরীক্ষার্থী ছিল ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৮ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন। গড় পাস ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ বিজ্ঞান বিভাগের প্রতি ১০০ জনের প্রায় ৮১ জনই পাস করেছে।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাস ৬৪.২৯ শতাংশ
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এবার পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৬ জন। পাস করেছে এক লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে যলেন, ‘মানবিকে এবার বিপর্যয় ঘটে গেছে। তারা ইংরেজি ও গণিতে খুব খারাপ করেছে। সেজন্য ফেলের সংখ্যাটাও মানবিকে বেশি। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ভালো করায় তাদের পাসের হার ও জিপিএ প্রাপ্তি ভালো।’
তিনি বলেন, ‘মানবিকে কেন এমন হলো, তারা ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল কেন; তা খাতিয়ে দেখা হবে। কীভাবে মানবিকের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
কালের সমাজ/ওজি

