শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাজধানী রাঁচি। সোমবার (১০ আগস্ট) বিধানসভা অভিমুখে মিছিল নিয়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের লক্ষ্য করে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। তাতেও আন্দোলনকারীদের থামানো না গেলে একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করা হয়।
১৬ দিন ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে সোমবার সকাল থেকেই ট্রেন, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাঁচিতে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি চালানো হয়। শহরের অধিকাংশ স্কুলও বন্ধ রাখা হয়। তবে এসব বাধা পেরিয়ে আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে এগিয়ে যান।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (জেএসএসসি) নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের অন্যতম নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান জানান, সিবিআই তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
এখনও ছয়জন আন্দোলনকারী অনশন করছেন। অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে নতুন পথ খুঁজে আন্দোলন এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে রোববার পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের ছয় দফা বৈঠক হলেও কোনও সমাধান হয়নি। রাজ্য সরকারের দাবি, তারা শিক্ষার্থীদের ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নিয়েছে এবং তিনটি পরীক্ষা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তারা ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন।
এদিকে চাপের মুখে সিআইডির সমন পাওয়ার পর রোববার জেপিএসসির তিন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এর আগে ২২ জুলাই কমিশনের চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে পদত্যাগ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন যে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিজেপি নেতারাও।
কালের সমাজ/এসআর

