ঢাকা শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

আলিম পরীক্ষায় মাদ্রাসা বোর্ডে আমতলী উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী মাইমুনা

আমতলী উপজেলা প্রতিনিধি, বরগুনা | আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম আলিম পরীক্ষায় মাদ্রাসা বোর্ডে আমতলী উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী মাইমুনা

মেধা, অধ্যবসায় ও নিরলস পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালের আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বরগুনার আমতলী উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীর গৌরব অর্জন করেছেন মাইমুনা। তিনি আমতলী বন্দর হুসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫.০০ অর্জন করে উপজেলার সেরা ফলাফল করেন।

এটি তাঁর শিক্ষাজীবনের প্রথম বড় অর্জন নয়। এর আগে ২০২২ সালে মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল (এসএসসি সমমান) পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫.০০ অর্জন করে তিনি সবার নজর কেড়েছিলেন। ধারাবাহিকভাবে দুটি পাবলিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে তিনি নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মাইমুনার বাড়ি আমতলী উপজেলার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর বাবা মো. আ. মালেক ফেরদৌস মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক এবং মা সাইয়েদা নাছরিন একজন গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। বেড়ে ওঠা মাইমুনা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী ও নিয়মানুবর্তী ছিলেন।

মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাওলানা আবু তাহের বলেন, মাইমুনা শ্রেণিকক্ষে অত্যন্ত মনোযোগী, বিনয়ী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং শিক্ষকদের পরামর্শ অনুসরণ করার কারণে তিনি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

মাইমুনা বলেন, এই সাফল্যের জন্য আমি সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। বাবা-মা, শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া ও সহযোগিতা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে চাই।

মাইমুনার এই অসাধারণ সাফল্যে আমতলী বন্দর হুসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মোহাম্মদপুর মাহমুদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, মাইমুনা ভবিষ্যতেও সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রেখে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আমতলী উপজেলা এবং বরগুনা জেলার সুনাম আরও উজ্জ্বল করবেন।

আমতলী বন্দর হুসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুছ হাওলাদার বলেন, মাইমুনার এ সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি উপজেলার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। তাঁর এই কৃতিত্ব প্রমাণ করে, নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরাও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম।

কালের সমাজ/কে.পি

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!