ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের গহেরপুর গ্রামে মামলার এক বাদীর বসতঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ঘরের আসবাবপত্র, ফ্রিজ, কাপড়চোপড়, নগদ টাকা, জমির দলিলপত্র ও স্কুলের বইসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে স্থানীয় লোকজন ওই বাড়িতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেও ততক্ষণে ঘরের সব মালামাল পুড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মারধরের ঘটনায় রেজাউল মাতুব্বরের স্ত্রী মুন্নি বেগম বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটির নম্বর নগরকান্দা জিআর-১৪৭/২৬। মামলার পর আসামিদের ভয়ে মুন্নি বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ঘরে তালা ঝুলিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছিলেন বলে তিনি জানান।
মুন্নি বেগমের দাবি, ওই মামলার দুই আসামি তুহিন সিকদার ও লাদেন সিকদার আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তবে তারা এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আগুন লাগার সময় বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্য ছিলেন না।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মুন্নি বেগম বাদী হয়ে সিকদার পরিবারের নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে নগরকান্দা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন—ওসমান শিকদার, পলাশ শিকদার, লাদেন শিকদার, লুৎফার শিকদার, সালমান সিকদার, ফরিদ শিকদার, রনি শিকদার, হামিদুর শিকদার ও হাবিবুর শিকদার।
মুন্নি বেগম বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার স্বামী রেজাউল মাতুব্বরসহ কয়েকজনকে মারধর করার ঘটনায় আমি মামলা করি। এরপর আসামিদের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছি। ঘরে তালা মেরে রেখেছিলাম। সোমবার আগুন লাগিয়ে ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি সবকিছু পুড়ে গেছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও তাদের বাড়ির কয়েকটি ঘরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা এবং পাটখড়ির গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, তাদের লোকজনের বাড়িঘরে এ পর্যন্ত ১৬ বার আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এনায়েত মাতুব্বর ও জাহিদ মাতুব্বর পক্ষের সঙ্গে ওসমান শিকদার ও পলাশ শিকদার পক্ষের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ, মামলা ও হামলার ঘটনা চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, ‘কিছু ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলমাল বা দাঙ্গাহাঙ্গামা হতে পারে। কিন্তু আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য কাজ কেউ করে থাকলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ রাসুল সামদানী আজাদ বলেন আগুনে বসতঘর পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি একটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
কালের সমাজ/কে.পি

