ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

‎ঝিনাইদহে শিশু হত্যার দায়ে প্রতিবেশী নারীর যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম ‎ঝিনাইদহে শিশু হত্যার দায়ে প্রতিবেশী নারীর যাবজ্জীবন

‎ঝিনাইদহে আলোচিত শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলার একমাত্র আসামি শান্তনা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের শিশু সাবাকে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। দণ্ডপ্রাপ্ত শান্তনা খাতুন নিহত শিশু সাইমা আক্তার সাবার প্রতিবেশী।

‎মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ম আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

‎মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর সকালে পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সাইমা আক্তার সাবা বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে শিশুটির বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

‎পরে ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের ঘরের ভেতর থেকে শিশু সাবার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

‎মামলার তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোজ কুমার ঘোষ গত ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন।

‎এর আগে মামলায় গ্রেপ্তারের পরে জবানবন্দিতে আসামি দাবি করেন, ঘটনার দিন আসামি শান্তনা খাতুনের ছেলে আবু জুবায়েরের সঙ্গে খেলতে গিয়ে শিশু সাবার মারামারি হয়। একপর্যায়ে সাবার মাথায় আঘাত করেন শান্তনা খাতুন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখেন শান্তনা খাতুন।

‎মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এ-পিপি) অ্যাডভোকেট কাজী একরামুল হক বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামি শান্তনা খাতুনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আমরা আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।’

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!