ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শুভ্র কাশফুলে শরৎতের নান্দনিক সাজে নবীনগর

নবীনগর উপজেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম শুভ্র কাশফুলে শরৎতের নান্দনিক সাজে নবীনগর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শরৎতের নীল আকাশে ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘের ভেলা। এ নিয়ে বহু কবিতা ও গান রচিত হয়েছে, বাস্তবেও যেন তাই। শরৎতের নান্দনিক সৌন্দর্য্য এখন দেশের অনেক জায়গায় দেখা মিলে। তেমনই নবীনগরের পশ্চিম ইউনিয়নের মেঘনা পাড়ে প্রকৃতির এমন অপরূপ সাজ লক্ষ্য করা যায়। তাই তো অনেকেই ছুটছেন সেখানে প্রকৃতির বুকে শ্বাস নিতে। নদীর সোনালী বালুতে লেপটে আছে দর্শনার্থীদের পায়ের চিহ্ন। তবুও প্রকৃতি প্রেমীরা মনের অনুভূতিকে প্রসারিত করতে সব সময়ই প্রাকৃতিক সৌন্দযের পাশে কিছু সময় কাটাতে চাই। কখনো অঝোর ধারায় বৃষ্টি, কখনো বা থেমে থেমে একেধারে বৃষ্টি। শ্রাবণ মাস শেষে ভাদ্র মাসের শুরুতে তথা শরৎতের আগমনে বর্ষা ঋতুকে বিদায় জানিয়ে প্রকৃতি বরণ করতে চলেছে শরৎকালকে। শরৎকে বলা হয় শুভ্রতার প্রতীক। শিউলি ফুল, স্বচ্ছ আকাশ, মায়াবী জ্যোৎস্নার কারণেই এমন নাম হয়েছে। তবে এর মধ্যে অন্যতম কাশফুল। এখন শরৎকে স্বাগত জানাতে মেতে উঠেছে কাশ ফুল। সবুজ-শ্যামল
প্রকৃতির রাজ্য নবীনগর উপজেলার ২১ ইউনিয়ন
ও একটি পৌরসভায় গ্রাম গুলোতে নদীর পাড়ে মাথা উচু করে দোল খাচ্ছে শুভ্র সাদা এ কাশফুল গুলো। সেখানে প্রাকৃতিক নিয়মেই তৈরী হয়েছে কাশফুলের বাগান। আর এই নজর কারা কাশফুলের হাতছানি মানুষের মনকে ভীষণ ভাবে আকর্ষণ করে। এ জন্য সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত ভীড় জমাচ্ছে সেখানে। কাশফুল দেখতে আসা কয়েক জনের সাথে কথা বললে তারা বলেন-"যান্ত্রিক নাগরিক জীবনের একঘেয়েমী কাটানোর জন্য এ কাশফুলের সান্নিধ্যে আসি, এই কাশফুলের শুভ্রতা মনকেও শুদ্ধ করে দেয়।" নবীনগর শহর থেকে পরিবার নিয়ে আসা মমতাজ, সাদেক, সজিব ও শিলা জানান-"কাশফুলের সাথে মানুষের এক নিবিড় সম্পর্ক, তাই আমরা এখানে এসেছি এ সৌন্দর্য দেখতে ও কিছু ছবি তোলার জন্য। এখানের দৃশ্য গুলো সত্যি খুব মনোরম, শুভ্রতার রেশ যেন চারদিকে ছড়িয়ে আছে।"
বন্ধুদের নিয়ে কাশবন দেখতে আসা কবি আবদুল কাদির বলেন-"বৃষ্টি আর রৌদ্র ছায়ার খেলার মধ্য দিয়ে ধবধবে সাদা ফুলে ভরে ওঠে কাশবনে। মৃদু বাতাসে যখন কাশফুল দোল খায় দেখে মন ভরে ওঠে আনন্দে। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর সৃষ্টিকর্তার পরম দান। তখন মুগ্ধ হয়ে কবি রবিঠাকুরের সুরে সুর মিলিয়ে গেয়ে উঠতে মন চায়-"তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে, এসো গন্ধে বরণে এসো গানে, তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণের হোক না করোনাকাল।" শরৎতের এই রূপ যে কাউকে মুগ্ধ করে তুলবে। নদীর ধার, জলাভূমি, চরাঞ্চল, শুকনো রুক্ষ এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের কোন উঁচু জায়গায় কাশ ফুলের ঝাড় বেড়ে ওঠে। বাংলা সাহিত্যে কাশবনের বহু বর্ণনা পাওয়া যায়। কাশফুলের জাত ভাইয়ের নাম কুশ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পুরাণ-এ কুশের স্থান খুব উঁচুতে। সাহিত্যে কাশফুলের কথা নানা ভাবে এসেছে। রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন গ্রন্থ কুশজাতক কাহিনী অবলম্বন করে শাপমোচন নৃত্যনাট্য রচনা করেছেন। কাশফুলের ইংরেজী নাম (Kans Grass) ও উদ্ভিদ তাত্ত্বিক/বৈজ্ঞানিক নাম- (accharum Sportaneum)। এটি ঘাস জাতীয় গোত্রের উদ্ভিদ।
নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন- "কাশ ফুলের মঞ্জুরী দন্ড ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে, বীজে সূক্ষ্ম সাদা লোম থাকে। কাশ উদ্ভিদ প্রজাতির উচ্চতা তিন মিটার থেকে পনের মিটার লম্বা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর এর মুল গুচ্ছ প্রকৃতির। পাতা রুক্ষ ও শিরা বিন্যাস সমান্তরাল। এর ফুল পালকের মত নরম এবং সাদা বর্নের। কাশফুলের শুভ্রতার অর্থ এটি শান্তির বার্তা বয়ে আনে। আর এ জন্যই শুভ কাজে ব্যবহার করা হয় কাশফুলের পাতা বা ফুল।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!