ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর `খ` ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ইমরান শেখকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে গুনে গুনে টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেলা প্রশাসন এ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
রবিবার (২৬ জুলাই) জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিষয়টি রাত ১১টার দিকে নিশ্চিত করেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিন্টু বিশ্বাস।
জেলা প্রশাসনের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর `খ` ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ইমরান শেখের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(ঘ) ধারায় বর্ণিত অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে একই বিধিমালার ১২(১) ধারা অনুযায়ী ২৬ জুলাই ২০২৬ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে বিধি অনুযায়ী তিনি খোরপোষ ভাতা পাবেন।
এর আগে রবিবার বিকেলে ইমরান শেখের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। দুই মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি নিজের কার্যালয়ে চেয়ারে বসে এক সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে গুনে গুনে রাখছেন।
ভিডিওটি অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ভিডিওতে তাকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্পর্কেও মন্তব্য করতে শোনা যায়। তিনি বলেন, উনিও চল্লিশতম বিসিএস, আমিও চল্লিশতম বিসিএস। উনার কপাল ভালো, উনি ক্যাডার হয়েছেন, আর আমি নন-ক্যাডার হয়েছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান শেখ দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা টাকা ঘুষের নয়, বরং ধার দেওয়া অর্থ ফেরত নেওয়ার সময় ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনেকেই আমার কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে টাকা ধার নেন। পরে সেই টাকা ফেরত দেন। এটি তেমনই একটি ঘটনা।
তবে কার কাছ থেকে তিনি ওই টাকা নিয়েছেন, সেই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান জানান, এর আগেও দাপ্তরিক অনুপস্থিতির কারণে ইমরান শেখকে শোকজ করা হয়েছিল। পরে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগের সত্যতা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হওয়ার পর জেলা প্রশাসন দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালের সমাজ/এএইচবি

