ঢাকা মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মা-বাবা ও স্ত্রীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ

কালের সমাজ ডেস্ক | জুন ২, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম মা-বাবা ও স্ত্রীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ

সাবেক মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ  তোফায়েল আহমেদকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে  ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মানুষের ঢল নামে। জানাজার নামাজে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও চরাঞ্চল থেকে হাজারো মানুষ সমবেত হন।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠিত জানাজাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জনসমাগম বাড়তে থাকে। নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে উপস্থিত হন। অনেকেই আবেগঘন পরিবেশে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের কথা স্মরণ করেন।

জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে এই প্রবীণ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

জানাজার আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত জনতা নীরবতা পালন করে শ্রদ্ধা জানান।

বিপুল জনসমাগমের কারণে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন ও আয়োজকরা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারীরা বারবার মাইকে সবাইকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানান এবং দলীয় স্লোগান পরিহারের অনুরোধ করেন। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপস্থিত জনতা পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের পাশাপাশি ভোলার রাজনীতির আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির অবদানও স্মরণ করেন। নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের আদর্শ ও কর্ম তুলে ধরার আহ্বানও জানানো হয়।

জানাজা শেষে মরদেহ তার নিজ এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে নেওয়া হয়। সেখানে মা ও প্রয়াত স্ত্রীর কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতির এক পরিচিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও স্মৃতিতে রয়ে গেলেন তোফায়েল আহমেদ।

কালের সমাজ/কে.পি

 

Link copied!