ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ২৭, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একাংশের মুসল্লিরা পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন।

বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকে রাজধানীসহ চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, পটুয়াখালী, বগুড়া, জামালপুর, দিনাজপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কোথাও কোথাও পরিবার-পরিজন নিয়ে নারী-পুরুষ একসঙ্গে নামাজে অংশ নেন। নামাজ শেষে পশু কুরবানি, কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

রাজধানীর পান্থপথ এলাকার সামুরাই কনভেনশন সেন্টারে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ‘মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ জামাতে কয়েকশ মুসল্লি অংশ নেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে তারা দীর্ঘদিন ধরে আগাম ঈদ উদযাপন করে আসছেন। নামাজ শেষে খুতবা ও বিশেষ দোয়ায় দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাদ্রা দরবার শরীফকে কেন্দ্র করে জেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে একই দিনে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। সকালে সাদ্রা দরবার শরীফের মাদরাসা মাঠে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়, পরে একই মাঠে আরেকটি জামাত হয়। দুই জামাতেই স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা ইমামতি করেন। ভোর থেকেই আশপাশের গ্রামগুলো থেকে মুসল্লিরা দলে দলে এসে নামাজে অংশ নেন।

নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কুরবানি সম্পন্ন করেন স্থানীয়রা। হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব ও শাহরাস্তিসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামগুলোতে দিনভর ছিল ঈদের উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসরণ করেই তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

একই ধারায় মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকায় সকাল ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। নারী-পুরুষ একসঙ্গে জামাতে অংশ নেওয়ার এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিশেষ পরিবেশ তৈরি হয়। নামাজ শেষে দোয়া, কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পটুয়াখালীর অন্তত ৩৫টি গ্রামেও একই দিনে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী প্রায় ২৫ হাজার মানুষ এই ধারায় ঈদের নামাজ ও কুরবানি সম্পন্ন করেন। ভোর থেকেই গ্রামগুলোতে জামাত ও কুরবানিকে ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে খোলা মাঠের পরিবর্তে মসজিদের ভেতরে সীমিত পরিসরে জামাত আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের মতে, এটি গাবতলীতে আগাম ঈদ উদযাপনের ধারাবাহিক চতুর্থ বছর।

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার অন্তত ২০টি গ্রামেও একই দিনে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। সকালে জামাত শেষে কুরবানি ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে এলাকাগুলোতে উৎসব ছড়িয়ে পড়ে।

দিনাজপুরেও অর্ধশতাধিক স্থানে আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন মসজিদ ও গ্রামে সকাল থেকে মুসল্লিরা নামাজে অংশ নেন। স্থানীয়দের দাবি, জেলার প্রায় ৫০টি স্থানে এ ধরনের জামাত হয়েছে। প্রতিটি জামাতেই শত শত মানুষ অংশ নেন এবং পরে কুরবানি সম্পন্ন করেন।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়াসহ আশপাশের অন্তত ৬০টি গ্রামেও একই দিনে ঈদ উদযাপিত হয়েছে। মির্জাখীল দরবার শরীফ এবং জাহাঙ্গিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ধারা অনুসরণ করে আসছেন। নির্ধারিত খানকাহ মাঠে প্রধান জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি থাকলেও বিভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। কোথাও কোথাও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

ঈদের নামাজ শেষে অধিকাংশ স্থানে কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং কুরবানির মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন মুসল্লিরা। স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের অনুসরণের ধারাবাহিকতায় তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!