কুমিল্লার এর এলাকায় আজ বুধবার সকাল আনুমানিক ৯টা থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভয়ংকর ঝড়, তুফান, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিতে পুরো এলাকার জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। ঈদুল আযহার ঠিক আগের দিন এমন বৈরী আবহাওয়া সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করে। কিছু সময়ের মধ্যেই হঠাৎ করে প্রবল দমকা হাওয়া বইতে থাকে। এরপর শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি ও ঘন ঘন বজ্রপাত। বজ্রপাতের বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যেই রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। অনেক মানুষ নিরাপত্তার জন্য দোকানপাট ও ঘরের ভিতরে আশ্রয় নেন।
এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন শহর থেকে হাজারো মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। অনেকে আবার কোরবানির পশু কেনার জন্য হাট-বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক এমন সময় এই ভয়াবহ আবহাওয়া মানুষের যাতায়াতে বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সড়কে চলাচলকারী যাত্রী, মোটরসাইকেল আরোহী, পথচারী ও পশু ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক মিনিটের এই ঝড়-বৃষ্টিই পুরো এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বদলে দেয়। কোথাও কোথাও গাছের ডাল ভেঙে পড়ে এবং কয়েকটি এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটও দেখা দেয়। বজ্রপাতের আতঙ্কে অনেক পরিবার ছোট শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেয়।
গ্রামের কৃষকরাও পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। মাঠে থাকা বিভিন্ন ফসল ও গবাদিপশু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে ঈদের বাজার ও কোরবানির পশুর হাটেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, গাছের নিচে, নদীর পাড় ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্যও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রকৃতির এই ভয়ংকর রূপের মধ্যেও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপনের প্রত্যাশা করছেন এর সাধারণ মানুষ।
কালের সমাজ/এসআর

