ঢাকা বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রস্তুত সাড়ে ২৯ হাজার জনবল

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ২৭, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রস্তুত সাড়ে ২৯ হাজার জনবল

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে অপসারণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে দুই সিটি কর্পোরেশনে প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে দুই সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরবাসীর সুবিধার্থে বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে। বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার প্লাস্টিক, পলিব্যাগ ও বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের দিন বিকেল থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। এবার রাজধানীতে প্রায় ৭ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখান থেকে প্রায় ৫৫ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, কোরবানির পশুর হাট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তদারকিতে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও যান্ত্রিক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে এবং পরবর্তী আট ঘণ্টার মধ্যে প্রথম দিনের বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, কোরবানির বর্জ্য কোনোভাবেই ড্রেন বা নর্দমায় ফেলা যাবে না। এতে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বৃষ্টির সময় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।

ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান জানান, মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে বর্জ্য স্থানান্তরের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮, ২৯ ও ৩০ মে—এই তিন দিনে মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনে ১৫ হাজার ৯৩৫ টন, দ্বিতীয় দিনে ১১ হাজার ৭৭৬ টন এবং তৃতীয় দিনে ৬ হাজার ২৩১ টন বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া পশুর হাটের বাঁশ, আউড় ও অন্যান্য বর্জ্য ধাপে ধাপে অপসারণ করা হবে—প্রথম দিনে ৬০ শতাংশ, দ্বিতীয় দিনে ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় দিনে অবশিষ্ট ১০ শতাংশ।

চলতি বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার পশু কোরবানি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব বর্জ্য অপসারণে মোট ২ হাজার ১১৭টি যান ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কম্পেক্টর, ডাম্প ট্রাক, কন্টেইনার ক্যারিয়ার, পে-লোডার, এক্সকাভেটর, ব্যাকহো লোডার, বুলডোজার ও পানির গাড়ি।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন স্যাভলন এবং প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হবে। নগর ভবনে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পুরো কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পশুর হাটে পৃথক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পশুর স্বাস্থ্যসেবায় মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে।

নাগরিক অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দুটি হটলাইন নম্বর চালু থাকবে—০১৭০৯৯০০৮৮৮ ও ০২২২৩৩৮৬০১৪।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিং চলছে। পাশাপাশি মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে নামাজের পর ও জুমার খুতবায় পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত বছর ডিএনসিসি এলাকায় প্রায় ২০ হাজার ৮৮৯ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছিল। এবারও একই পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ডিএনসিসির উপ-প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সংস্থার নিজস্ব প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পাশাপাশি আরও সাড়ে ৪ হাজার সংগ্রহকর্মী মাঠে কাজ করবেন। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রায় ১০০ জন করে মোট সাড়ে ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি করবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার জনবল মাঠে থাকবে।

ডিএনসিসি বর্জ্য অপসারণে ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণ করেছে এবং জীবাণুনাশক হিসেবে ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া ৭৫২টি যানবাহন ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন জানান, ৫৪টি ওয়ার্ডে প্রায় এক হাজার মাংস প্রস্তুতকারককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সঠিকভাবে পশু জবাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়।

তিনি আরও জানান, কোরবানির তিন দিন আগে থেকেই ১০টি জোনে মনিটরিং টিম কাজ শুরু করেছে। পশু জবাইয়ের স্থান প্রস্তুত ও ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রাজধানীকে বর্জ্যমুক্ত রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা।

কালের সমাজ/এএইচবি 

Link copied!