পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।
তিনি বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর দেওয়া ঈদ উপহারই বড় নয়, এর পেছনের ভালোবাসা ও মূল্যবোধই সবচেয়ে বড় বিষয়।
মঙ্গলবার ২৬ মে বিকেলে ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত দলীয় নেতাকর্মীদের ঈদ উপহার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য ঈদের উপহার পাঠিয়েছেন। এই ঈদ উপহার আমি আমার পুরো রাজনৈতিক জীবনেও পাইনি। তাই জীবনের স্মৃতি হিসেবে এই ঈদ উপহার থেকে ১০০ টাকা রেখে দেবো। কারণ আমার প্রিয় নেতার কাছ থেকে পাওয়া এই ঈদ উপহার আমার জীবনের চরম পাওয়া।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এমপি রুমা আরও বলেন, বিগত প্রায় দেড় যুগ ধরে আপনারা জেল-জুলুম, হামলা-মামলা ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। অনেকেই নিশ্চিন্তে ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা চাকরি করতে পারেননি। এমনকি স্বাভাবিক জীবনযাপনও করতে পারেননি। আপনাদের এই ত্যাগ ও সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবেই আজকের এই ঈদ উপহার।
তিনি আরো বলেন, ঈদ উপহার যাই হোক, এটিকে হৃদয় থেকে গ্রহণ করবেন। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দলের প্রতি ভালোবাসা, ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রতি সম্মান এবং দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্বীকৃতি।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০,পাবনা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থীর পরাজয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দলের কিছু নেতাকর্মীর ভুলের কারণে বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। এতে পাবনা-৩ এলাকার উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে এবং দলীয় নেতাকর্মীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আমি সবসময় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে পাশে পাবেন। দিন-রাত সর্বসময় আমার মোবাইল নম্বর আপনাদের জন্য খোলা থাকবে।
অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মুজাহিদ স্বপন। বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান ও বর্তমান সদস্য সচিব প্রভাষক জাফর ইকবাল হিরোক সরদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাব হোসেন।
কালের সমাজ/এসআর

