লাখো কণ্ঠের ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আজ মুখর হচ্ছে আরাফার ময়দান। গতকাল মিনায় অবস্থানের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আজ হাজিরা সূর্যোদয়ের পর আরাফার ময়দানে গমন করেন, অবস্থান করবেন সূর্যোদয় পর্যন্ত। আরাফা মক্কা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি উন্মুক্ত ময়দান।
পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১৬ লাখের বেশি হাজি। মঙ্গলবার (২৬ মে) জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ভোর থেকেই তারা আরাফাতের প্রান্তরে ইবাদত, দোয়া ও আল্লাহর স্মরণে মগ্ন হন। ইসলামী ঐতিহ্যে ‘হজের মূল স্তম্ভ’ হিসেবে পরিচিত এই অবস্থানকে ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ বলছে, পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক ধাপ পালনের জন্য মঙ্গলবার আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখেরও বেশি হাজি সমবেত হয়েছেন বলে সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ভোর থেকেই হাজিরা আরাফাতের ময়দানে পৌঁছাতে শুরু করেন। সেখানে তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন এবং ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় সময় কাটাবেন।
আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধানতম ফরজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আরাফায় অবস্থানই হজ। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৯৭৫)
আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরাহ থেকে সমবেত মুসল্লি ও মুসলিম উম্মাহর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলী বিন আবদুল রহমান আল হুজাইফি। খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন।
আরাফায় অবস্থানের পুরো সময়ে মুসল্লিরা ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়ায় মশগুল থাকেন। বিশেষত সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে যাওয়ার পর হাজিরা অশ্রু বিগলিত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা, দয়া, অনুগ্রহ ও মুক্তি কামনা করেন। কেননা হাদিসের ভাষ্য মতে আরাফার ময়দানে দোয়া করলে তা কবুল হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই যেদিন আল্লাহ আরাফার দিন থেকে বেশি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। এই দিন আল্লাহ নিশ্চয়ই নিকটবর্তী হন এবং তাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সঙ্গে গর্ব করেন; বলেন, তারা কী চায়?’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৩৪৮)
সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন।
আরাফা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মুজদালিফায় পৌঁছে তাঁরা মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করবেন। রাতে সেখানে খোলা ময়দানে অবস্থান করবেন এবং কেউ কেউ শয়তানের উদ্দেশে নিক্ষেপ করতে পাথরের নুড়ি সংগ্রহ করবেন। ফজরের নামাজ আদায়ের পর মিনার দিকে রওনা হবেন হাজিরা। সেখানে তাঁরা বড় শয়তানকে পাথর মারবেন। এরপর পশু কোরবানি করা হলে মাথা মুণ্ডানোর পর হালাল হয়ে যাবেন (ইহরাম ত্যাগ করবেন)। ১১ ও ১২ জিলহজের মধ্যে হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা।
উল্লেখ্য, হজ ইসলামের ফরজ বিধান ও পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। হজব্রত পালনের মাধ্যমে হাজিরা আল্লাহর দরবারে অসীম মর্যাদা ও প্রতিদান লাভ করে থাকেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে, অশ্লীলতা ও গুনাহর কাজ থেকে দূরে থাকে, সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। আর প্রকৃত হজের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫২১)
এপি ও আল জাজিরার তথ্য মতে, ১৪৪৭ হিজরি মোতাবেক ২০২৬ সালে ১৫ লাখের বেশি মুসল্লি হজব্রত পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৮ হাজার বাংলাদেশি হাজিও রয়েছেন।
কালের সমাজ/এসআর

