ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এরপরও তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়ে যায়নি বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি বলেছেন, কাতারে আলোচনা চলছে এবং কয়েক দিনের মধ্যেই অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনাও আন্তর্জাতিকভাবে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বলছে, নতুন করে মার্কিন হামলার পরও ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি এখনও সম্ভব বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) ভারত সফরের সময় জয়পুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রুবিও জানান, ‘আজ কাতারে কিছু আলোচনা হয়েছে। তাই আমরা দেখব কোনও অগ্রগতি করা যায় কি না। প্রাথমিক নথির নির্দিষ্ট ভাষা নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে অনেক আলোচনা চলছে। তাই এতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) চুক্তি করতে চান। তিনি হয় একটি ভালো চুক্তি করবেন, নয়তো কোনও চুক্তিই হবে না।’
এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী দক্ষিণ ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর কথা জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং মাইন পেতে রাখার চেষ্টা করা নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলা ‘আত্মরক্ষার্থে’ চালানো হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য ছিল ‘ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা দেয়া’।
সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মার্কিন বাহিনী সংযম বজায় রেখে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। অবশ্য এই হামলার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে সংঘাত অবসানের কোনও চুক্তি ‘এখনই হতে যাচ্ছে না’।
হকিন্স জানান, হামলার লক্ষ্য ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের কাছে একটি এলাকা। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় ইরানের একটি নৌঘাঁটি রয়েছে এবং তা হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর স্থানীয় কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেছেন। তবে সর্বশেষ মার্কিন হামলার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
কালের সমাজ/এসআর

