ঢাকা সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ানদের

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ২৫, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ানদের

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া অস্ট্রেলিয়ান কর্মীরা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। তারা ইসরায়েলি আটক অবস্থায় নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন বলে সোমবার (২৫ মে) স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় হামলা চালিয়ে সেটিকে আটক করলে সেখানে থাকা শত শত আন্তর্জাতিক কর্মীর মধ্যে ১১ জন অস্ট্রেলিয়ানও ছিলেন।

স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএস নিউজ জানিয়েছে, দলটির অনেক সদস্য, যার মধ্যে কয়েকজন অস্ট্রেলিয়ানও আছেন, অভিযোগ করেছেন যে তারা হাড় ভাঙা, মুখে টেজার ব্যবহার এবং অজ্ঞাত পদার্থ ইনজেকশনের শিকার হয়েছেন।

সোমবার সকালে মেলবোর্ন বিমানবন্দরে পৌঁছে কর্মী ভায়োলেট কোকো বলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ফ্লোটিলা অভিযানে আটক কর্মীদের মারধর, নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়ন করেছে।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের অনেকেই হাড় ভাঙা ও মাথায় আঘাতের শিকার হন, আর কিছু মানুষ কয়েক দিন ধরে ইনসুলিন ও রক্তচাপের ওষুধ ছাড়াই ছিলেন।

কোকো বলেন, আটক অবস্থায় তাকে একটি অন্ধকার কক্ষের মধ্যে ঠেলে নেওয়া হয়, সেখানে তাকে স্পর্শকাতরভাবে হয়রানি করা হয় এবং বারবার আঘাত করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ান কর্মীদের মধ্যে প্রথমে দেশে ফেরেন জেমা ও’টুল, যিনি রোববার রাতে ফেরেন এবং একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান।

২৩ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী মেলবোর্ন বিমানবন্দরে পৌঁছালে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা তাকে করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান।

ও’টুল অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে জানান, ইসরায়েলি বাহিনী আটক অবস্থায় কর্মীদের শারীরিক নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার শিকার করেছে।

নিউ সাউথ ওয়েলসের দ্বৈত-রোগ নির্ণয় সেবাকর্মী সুরিয়া ম্যাকইউয়েন বলেন, গাজায় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এটি ছিল তার তৃতীয় প্রচেষ্টা।

সর্বশেষ আটক অবস্থায় তাকে ৮০ ঘণ্টা ধরে আটকে রাখা হয় এবং একটি কক্ষে মারধর করা হয়, যেখানে ইসরায়েলি সেনারা জাতীয় সংগীত গাইছিল।

ম্যাকইউয়েন বলেন, ইসরায়েল যে কারাগার-জাহাজ ব্যবহার করেছে তা যুদ্ধবন্দি শিবিরের মতো ছিল, যেখানে ঘুমানোর জায়গা ছিল না, খুব কম টয়লেট ছিল এবং সৈন্যরা নির্বিচারে রাবার বুলেট ছুড়ছিল।

সহায়তা প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য জানান, তারা তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং এই প্রমাণগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি ব্যবহার করতে চান, যাতে ফিলিস্তিনিদের নির্যাতনের অভিযোগ সমর্থন করা যায়। সূত্র: আনাদলু

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!