বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা সদরের ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রকাশ্যে হামলায় নিহত হয়েছেন এখলাস গাজী নামে এক যুবক। এ ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মাহাবুব শিকদার ওরফে মাইজে নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৭ জনকে আসামি করে রামপাল থানায় মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (৩১ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হুমায়ুনের চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন এখলাস গাজী। এ সময় একদল ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠায়। সোমবার বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।
নিহতের পরিবারের দাবি, পূর্ব বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল আসামির দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের স্বজনরা বলেন, “আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যকে হারিয়েছি। আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।”
এদিকে মামলার বাদী জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৭ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, “পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। আমরা বাকি আসামিদেরও দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই।”
অন্যদিকে অভিযুক্তদের স্বজনরা বলছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত কামনা করেছেন।
রামপাল থানার পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে উপজেলার কুমলাই গাববুনিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মাহাবুব শিকদার ওরফে মাইজেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে মোংলা রামপাল সার্কেল এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রেফাতুল ইসলাম বলেন, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
প্রকাশ্যে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
কালের সমাজ/কে.পি

