ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নারী প্রশিক্ষণার্থীদের উত্ত্যক্ত করায় এনসিপি নেতাকে জুতাপেটা

নিজস্ব প্রতিবেদক | মে ৩০, ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম নারী প্রশিক্ষণার্থীদের উত্ত্যক্ত করায় এনসিপি নেতাকে জুতাপেটা

বগুড়ায় নারী প্রশিক্ষণার্থীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে এক নারী প্রশিক্ষণার্থীর হাতে জুতাপেটার শিকার হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র এক নেতা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত আলী আজম সাব্বিরকে দলের সব দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে এনসিপি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তাকে তিন দিনের সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আলী আজম সাব্বির এনসিপির শিবগঞ্জ উপজেলা সমন্বয় টিমের সমন্বয়কারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী সাব্বিরকে জুতা দিয়ে আঘাত করছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আলী আজম সাব্বির বগুড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্সের একজন প্রশিক্ষণার্থী। তার বিরুদ্ধে কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে অশালীন আচরণ, মোবাইল ফোনে আপত্তিকর বার্তা পাঠানো এবং অশ্লীল ভাষায় কথা বলার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থী তাকে টিটিসির একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে এক নারী প্রশিক্ষণার্থী তাকে জুতা দিয়ে মারেন। এ সময় তিনি নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান বলে জানা গেছে।

বগুড়া টিটিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক রাশেদুল হাসান শাহীন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। অভিযুক্তের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। আগামী ১ জুন প্রতিষ্ঠান খোলার পর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান বলেন, অভিযোগটি সংগঠনের নজরে আসার পরপরই আলী আজম সাব্বিরকে দলের সব দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে তাকে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!