ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ক্রেতা না পেয়ে শতাধিক চামড়া নদীতে ফেলে দিলেন ব্যবসায়ীরা

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী | মে ৩০, ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম ক্রেতা না পেয়ে শতাধিক চামড়া নদীতে ফেলে দিলেন ব্যবসায়ীরা

কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করে কিছু বাড়তি আয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন ফেনীর দাগনভূঞার দুই মৌসুমি ব্যবসায়ী দিদারুল আলম ও খুরশিদ আলম। তবে সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত হতাশায় রূপ নিয়েছে। পাইকার বা বেপারির অভাবে পচন ধরা শতাধিক গরু ও খাসির চামড়া শেষ পর্যন্ত নদীতে ফেলে দিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে উপজেলার মমারিজপুর গ্রামের কাটাখালী নদীতে চামড়া ফেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, কোরবানির ঈদের দিন তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে নগদ অর্থ দিয়ে শতাধিক চামড়া সংগ্রহ করেন। লাভের আশায় রাতভর স্থানীয় বাজারে ক্রেতার অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু দুপুর পর্যন্ত কোনো পাইকারি ব্যবসায়ী বা আড়তদারের দেখা মেলেনি। প্রচণ্ড গরমে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পার হওয়ায় চামড়াগুলো পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। উপায়ান্তর না দেখে ক্ষোভ ও হতাশা থেকে তারা চামড়াগুলো ভ্যানে করে নদীর স্রোতে ফেলে দেন।

চামড়া নদীতে ফেলে দেয়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, চামড়া নদীতে ফেলে দেয়ার ভাইরাল ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। তারা যদি চামড়া বিক্রি করতে না পারতো তাহলে বিষয়টি আমাদের জানাতো অথবা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে অবহিত করতো। কিন্তু তারা তা না করে নদীতে ফেলে দিয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

ফেনী জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলার ছয় উপজেলায় ৭৯ হাজার ৭৭৬টি পশু কুরবানি হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষজাতীয় পশু ৬৩ হাজার ৫৫টি এবং ছাগল ও ভেড়া ১৬ হাজার ৭২১টি। কিন্তু অতীতের মতো এবারও ফেনীর কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়নি কুরবানির পশুর চামড়া।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাঠপর্যায়ে মৌসুমি খুচরা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গরুর চামড়া কিনেছেন ১০০ থেকে ২০০ টাকা দরে। আর ছাগল ও ভেড়ার চামড়া কিনেছেন ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। কিছু এলাকায় কোনো ক্রেতার দেখাই মেলেনি। নিরুপায় হয়ে সিংহভাগ কোরবানিদাতা তাদের পশুর চামড়া মাটিচাপা কিংবা স্থানীয় এতিমখানা ও মাদরাসায় দান করে দিয়েছেন।

এত বিপুল সংখ্যক পশুর চামড়া সঠিক ব্যবস্থাপনায় সংগ্রহ করা না গেলে তা একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ক্ষতি, অন্যদিকে পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও সচেতন মহলের মতে, চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীদের এই অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের এখনই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় নজর দেওয়া প্রয়োজন।

কালের সমাজ/এসআর

গ্রাম-গঞ্জ বিভাগের আরো খবর

Link copied!