ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
আমেরিকার আকস্মিক হামলা

ঠেকাতে মরুভূমিতে চীনের নজিরবিহীন সামরিক কর্মযজ্ঞ

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ৩০, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম ঠেকাতে মরুভূমিতে চীনের নজিরবিহীন সামরিক কর্মযজ্ঞ
সংগৃহীত ছবি

চীনের প্রত্যন্ত জিনজিয়াং প্রদেশের মরুভূমিতে গড়ে উঠছে বিশাল ও অভূতপূর্ব সামরিক অবকাঠামো। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিজেদের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো ও ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোকে আরও সুরক্ষিত করতে বেইজিং সেখানে একের পর এক লঞ্চ প্যাড, বাঙ্কার এবং অত্যাধুনিক যোগাযোগ কেন্দ্র নির্মাণ করছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আকস্মিক হামলার মুখেও যেন চীনের পারমাণবিক বাহিনী কার্যকর থাকে এবং নিশ্চিত পাল্টা আঘাত হানতে পারে, সে লক্ষ্যেই এই বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চীনের আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো শহরে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে সেই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতেই জিনজিয়াংয়ের হামি ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো অঞ্চলের আশপাশে নতুন সামরিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকায় অন্তত ৮০টি নতুন লঞ্চ প্যাড শনাক্ত হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব স্থাপনা মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট ও ফাইবার-অপটিক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্যও বিশেষ অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত ছয় বছরে নির্মিত দুটি বিশাল অষ্টভুজাকৃতির সামরিক স্থাপনা। এসব কমপ্লেক্সে সেনা সদস্যদের আবাসন, ভারী সামরিক যান সংরক্ষণ, সুরক্ষিত বাঙ্কার, অস্ত্রাগার, বিমান চলাচলের সুবিধা এবং রেল সংযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। সম্প্রতি এপ্রিল ও মে মাসে ধারণ করা স্যাটেলাইট ছবিতে এসব স্থাপনার আশপাশে বড় সামরিক যানবাহনের মহড়া এবং ছদ্মাবরণে রাখা ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির উপস্থিতিও দেখা গেছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় দ্রুততম গতিতে পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন। পেন্টাগনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া যেখানে মূলত ভৌগোলিক দূরত্ব ও শক্তিশালী কাঠামোর ওপর নির্ভর করে তাদের পারমাণবিক ঘাঁটি সুরক্ষিত রাখে, সেখানে চীন চারপাশে বিস্তৃত প্রতিরক্ষামূলক ও যোগাযোগভিত্তিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে। মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশে এত বড় সামরিক অবকাঠামো নির্মাণকে নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং নতুন স্নায়ুযুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও উসকে দিতে পারে।

কালের সমাজ/এএইচবি

Link copied!