ঢাকা শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চুক্তি সইয়ের দ্বারপ্রান্তে আমেরিকা-ইরান

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ২৯, ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম চুক্তি সইয়ের দ্বারপ্রান্তে আমেরিকা-ইরান

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের কূটনীতিবিদরা একটি বড় ধরনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছেন। 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান ৬০ দিনের একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছে।

এই চুক্তির আওতায় শুধু যুদ্ধবিরতির মেয়াদই বাড়ানো হবে না, বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

বিশ্ব গণমাধ্যমের মতে, এই সমঝোতা স্মারকটি সই হলে তা হবে চলতি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর পারমাণবিক দাবিগুলো পূরণ করে একটি চূড়ান্ত শান্তিতে পৌঁছাতে হলে দুই পক্ষকে আগামী ৬০ দিনে আরও ব্যাপক ও নিবিড় দরকষাকষির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর আগেও কয়েকবার দুই দেশ চুক্তির কাছাকাছি গিয়েও শেষ মুহূর্তে আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল।

পর্দার আড়ালে নাটকীয়তা এবং ট্রাম্পের সময়ক্ষেপণ: মার্কিন নিউজ পোর্টাল ‘অ্যাক্সিওস’ বৃহস্পতিবার সকালে প্রথম এই খবরের সূত্রপাত করে জানায়, মার্কিন ও ইরানি আলোচকরা ৬০ দিনের খসড়া চুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছেন, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অভাবে তা আটকে আছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানি আলোচকরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে জানিয়েছেন যে তাঁদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে এবং তাঁরা চুক্তিতে সই করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের একজন কর্মকর্তাও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন আলোচক দল যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই চুক্তির চূড়ান্ত খুঁটিনাটি নিয়ে ব্রিফ করেন, তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এতে সই করেননি। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট মধ্যস্থতাকারীদের জানান, যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তিনি আরও দু-একদিন ভেবে দেখতে চান। তবে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ট্রাম্প এই চুক্তিতে সই করার পক্ষেই ঝুঁকছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে চাওয়ার পেছনে দুটি মূল কারণ রয়েছে। প্রথমত, তিনি নিশ্চিত হতে চান যে ইরানি কর্মকর্তারা সত্যিই চুক্তিতে সই করবেন এবং শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে যাবেন না।

দ্বিতীয়ত, এই সম্ভাব্য চুক্তিটি নিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী ধরনের বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, তা দেখেই তিনি তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান। এই আলোচনার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে ট্রাম্প অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গেও ফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

কালের সমাজ/এসআর

Link copied!