ঢাকা শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সরকারি ঘোষণার ১২ ঘণ্টা পরও রাস্তায় কোরবানির বর্জ্যের পাহাড়, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী

বিশেষ প্রতিনিধি | মে ২৯, ২০২৬, ১২:২২ পিএম সরকারি ঘোষণার ১২ ঘণ্টা পরও রাস্তায় কোরবানির বর্জ্যের পাহাড়, চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী
মিরপুর সাংবাদিক আবাসিক এলাকার চিত্র

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন শহর ও নগরে বিপুল পরিমাণ পশু কোরবানি দেওয়া হয়। কোরবানির পরপরই দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য সিটি করপোরেশন ও পৌর কর্তৃপক্ষ নানা ধরনের ঘোষণা ও প্রস্তুতির কথা জানালেও বাস্তবে অনেক এলাকায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। এবছরও সরকারি ঘোষণার ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের অলিগলি ও প্রধান সড়কে কোরবানির বর্জ্যের স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।

 মিরপুর-১১–এর ১৯ নম্বর  ডি ব্লকের চিত্র

রাস্তায় পড়ে থাকা পশুর রক্ত, নাড়িভুঁড়ি ও অন্যান্য বর্জ্য থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক এলাকায় ড্রেন ও নালা বন্ধ হয়ে পানি জমে যাচ্ছে, ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বর্জ্য দীর্ঘসময় পড়ে থাকলে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত ও জীবাণুবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দেখা মেলেনি। কোথাও কোথাও স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। তবে প্রয়োজনীয় জীবাণুনাশক ছিটানো ও দ্রুত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।

 মিরপুর-১১–এর ১৯ নম্বর লাইনের চিত্র

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শুধু ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন ও কঠোর তদারকি। প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ, দ্রুত বর্জ্য পরিবহন, জীবাণুনাশক ছিটানো এবং জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে কর্তৃপক্ষ ও নাগরিক—উভয়ের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। অন্যথায় কোরবানির আনন্দের মধ্যেই জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে এবং পরিবেশ দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

Link copied!