ঢাকা শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ভারতে কালবৈশাখীর

তাণ্ডবে বিপর্যস্ত একাধিক রাজ্য, প্রাণহানি ৪২

কালের সমাজ ডেস্ক | মে ৩০, ২০২৬, ০২:১১ পিএম তাণ্ডবে বিপর্যস্ত  একাধিক রাজ্য, প্রাণহানি ৪২
প্রচন্ড ঝড়ে গাছ চাপায় একটি প্রাইভেট কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়: ছবি সংগ্রহ

তীব্র দাবদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি নিয়ে এলেও কালবৈশাখীর ভয়াবহ তাণ্ডবে দেশের একাধিক রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার ঝড়, বজ্রপাত, ভারী বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ড ও জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। 
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। রাজ্যটির বিভিন্ন জেলায় ঝড় ও বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিহারেও একই ধরনের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে নিহত হয়েছেন আরও ৮ জন। সব মিলিয়ে তিন রাজ্যে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ জনে।

পশ্চিমবঙ্গে ঝড়ের কারণে কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রবল বাতাসে অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়েছে, ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়ির অংশ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়ের দাপটে রাসবিহারী, রবীন্দ্র সরোবর, নেতাজি নগর, টালিগঞ্জ, হরিশ মুখার্জী রোড, রিপন স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট, মল্লিক বাজার ও এজেসি বোস রোডসহ মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক গাছ উপড়ে পড়ে। পরবর্তীতে কলকাতা পৌরসভা, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর কর্মীরা এসে গাছ সরিয়ে রাস্তা সচল করেন।

এদিকে ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে একাধিক রাজ্যে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। অনেক স্থানে রেললাইনের ওপর গাছ ও খুঁটি পড়ে যাওয়ায় ট্রেন চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন দেশের পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা থাকায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বেরোনোর এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালবৈশাখীর এই তাণ্ডব আবারও প্রমাণ করেছে, চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
কালের সমাজ/এএইচবি 
 

Link copied!