ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

দেশের স্বার্থবিরোধী চক্র সক্রিয়, সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক | এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম দেশের স্বার্থবিরোধী চক্র সক্রিয়, সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী চক্র কিন্তু এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। দেশের স্বার্থে আমাদের সবার সতর্ক থাকা জরুরি এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের মত, পথ ভিন্ন হতে পারে, আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক-বিরোধ থাকতে পারে, তবে আমাদের মধ্যকার বিতর্ক-বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ বছর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ এর জন্য মনোনীতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের জন্ম যুদ্ধে বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আত্মত্যাগে আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধে যারা আহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, সেই সকল আহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমাদের গভীর ভালোবাসা।

তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনাদের সাহসী ভূমিকা এখনো বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের জন্য প্রেরণা।’ তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ-এভাবে দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।’

May be an image of one or more people, dais, wedding and text that says ‍‍`দাধীনতা নুরিস্কার দধীনতাপরস্কার ২০২৬‍‍`

বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের সবচেয়ে গৌরবজনক রাষ্ট্রীয় সম্মান। স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা দেশ এবং জনগণের জন্য স্মরণীয় অবদান রেখেছেন কিংবা রাখবেন, তাদেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রবর্তন করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল জাতীয় নেতাদের অবদানকে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা যদি হীন দলীয় স্বার্থে আমাদের ইতিহাসের জাতীয় নেতাদের ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে কার্পণ্য করি, তাহলে ভবিষ্যতের ইতিহাস আমাদেরকে ক্ষমা করবে না। আমি বিশ্বাস করি, ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে দ্বিধাচিত্ত থাকা হীনম্মন্যতার পরিচায়ক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসাবিদ্যা, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, জনপ্রশাসন, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং অন্য কোনো ক্ষেত্রেও যারা গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন-এমন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থাকে প্রতি বছর দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়।

তিনি আরো বলেন, চলতি বছর স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক এবং পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে অসামান্য অবদানের জন্য আমার মরহুমা মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন।

May be an image of dais and text that says ‍‍`স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ প্রধান অতিথি জনাব তারেক রহমান এমপি মাননীয় প্রধানম্ত্রী, গণপ্রজাত্রী বাংলাদেশ ৩বৈ ৩ বৈরশাখ ১৪৩৩ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ওসমানী সমৃতি মিলনায়তন ঢাকা মন্ত্রপরিষদ বিভাপ પશिनহ ከግ วุดขา কেোমই ๕๖‍‍`
স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত সকল গুণীজন এবং প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং মোবারকবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ এবং জনগণের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনাদের এই অবিস্মরণীয় অবদান বাংলাদেশকে করবে সমৃদ্ধ।

আজ এবং আগামীর বাংলাদেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আপনাদের এইসব অবদান প্রেরণার উৎস হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে আপনাদের অবদান এবং সফল কর্মগুলো অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব দরবারেও সমাদৃত হবে।’

তিনি বলেন, ‘অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। সেই বাংলাদেশটি এখন ৫৫ বছর পার করে ফেলেছে। এতো বছরে আমাদের যেমন অনেক প্রাপ্তি রয়েছে, অপ্রাপ্তিও কম নয়। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশিত স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা কিংবা আর অযথা বিতর্ক নয়।’

সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি, দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।’

May be an image of crowd and dais

প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। কর্মক্ষম এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি বলেন, শুধু অর্থনীতিই নয়, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে এসেছিল। ইন্টেরিম সরকারের সময়েও শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরেনি দুঃখজনকভাবে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং কর্মমুখী করতেই হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার কাজটিও আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি।

May be an image of dais and text that says ‍‍`জনাব তারেক রহমান এমপি মাননীয় প্রধানম্ত্রী, গণপ্রজাজ্ঞ্ী বাংলাদশ সরকার বৈশাখ ১৪৩৩ ১৬ ওসমানী সৃতি মিলন মন্ত্পরিষদ 甘 গ d 님스요. ፍርባ‍‍`

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে অর্ধেকের বেশি নারী। নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতি সেক্টরকে চিহ্নিত করে সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার আগেই আমরা বিস্তারিতভাবে দেশের জনগণের সামনে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছিলাম। রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা প্রকাশ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য স্বাক্ষর করেছিলাম। জনগণ আমাদের প্রতিটি অঙ্গীকারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এবার জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পালা। আমরা ইতোমধ্যেই জনগণের সামনে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। আমরা দলীয় ইশতেহার এবং স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ।

পুঁথিগত পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন বেশি জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার যতবার রাষ্ট্র পরিচালনা সুযোগ পেয়েছে, বারবার এর প্রমাণ দিয়েছে।

May be an image of dais and text that says ‍‍`স্বাধীনতা পুরোস্কার ২০২৬ প্রধান অতিথি জনাব তারেক র রক্সরর্মপি রমপি মাননীয় প্রধানম্ত্রা গলপ্জান্তী বৈবপ্র্খ১৪৩৩/১৮ 2800 ១ង বৈশর্খ ভসমানী ততি ইিলিনায়তন মন্ত্রপরিষদ নि‍‍`

বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার সব কিছু স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সকল দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও জনদুর্ভোগ বিবেচনায় বর্তমান সরকার দাম বাড়ায়নি। এই খাতে প্রতিদিন শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।

দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সুবিধা নিশ্চিত রাখতে সরকার সম্ভাব্য সকল প্রকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কারণ, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জনগণের বিচলিত হওয়ার কারণ নেই।

তবে, রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্যের বর্জন, এমনকি পারিবারিক পর্যায়েও অমিতব্যয়িতা পরিহার করার জন্য  আমি দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাই।

 

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!