বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের বদলি এবং পদায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন নীতিমালায় বদলি-পদায়নের ক্ষমতার আংশিক বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে, ফলে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়নের দায়িত্ব এখন থেকে পালন করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
রোববার (২৬ জুলাই) প্রকাশিত ‘বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন নীতিমালা’ অনুযায়ী, সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের আবেদন এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে বদলি বা পদায়ন করা হবে। তবে জনস্বার্থে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো সময় যে কোনো কর্মকর্তাকে যে কোনো কর্মস্থলে বদলি বা পদায়ন করতে পারবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষকরা চাকরিতে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। একইভাবে অন্যান্য কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও বর্তমান কর্মস্থলে অন্তত দুই বছর পূর্ণ না হলে সাধারণভাবে বদলির আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে গুরুতর শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিক সমস্যার ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।
এতে আরও বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সরকারি চাকরিতে থাকলে একজনের কর্মস্থল বা নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠানে অন্যজনের বদলি বা পদায়নের আবেদন করা যাবে। এছাড়া অবসর-পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার এক বছর আগে সুবিধাজনক স্থানে বদলির আবেদন করলে শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।
অসম্পূর্ণ তথ্য বা হালনাগাদ পার্সোনাল ডাটা শিট (পিডিএস) ছাড়া কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা, পেশাগত প্রয়োজন, দুরারোগ্য রোগ এবং নিজ জেলা থেকে কর্মস্থলের দূরত্বসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বদলি বা পদায়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মাউশির মহাপরিচালককে। অন্যদিকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়নের ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছেই থাকবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই পরিবর্তনের ফলে বদলি-পদায়নের আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।
কালের সমাজ/এসআর

