ঢাকা শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন

নিজস্ব প্রতিবেদক | আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন

একই সঙ্গে দেশের দক্ষ জনশক্তিকে ম্যান্ডারিন ভাষায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে বিনা খরচে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে চীন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে চীনের কোম্পানি সিএমইসি কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পটি থেকে আগামী দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

এ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীন যাবেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া আমিনবাজারের ল্যান্ডফিল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও চীনের সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, হাটবাজার, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহার ও সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, দিনের বেলা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং রাতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় সমন্বয়ের সুযোগ রয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগে চীনের বিভিন্ন ব্যাংক ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, শুধু সৌরবিদ্যুৎ নয়, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চীনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চীনের পাওয়ারচায়না কোম্পানিকে এ বিষয়ে দ্রুত কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এভাবে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আমিনবাজারে ৪২ মেগাওয়াটের প্রকল্প নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পের চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও সরকারের মধ্যে। প্রকল্পটি ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসেবে ২০২৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

মীর শাহে আলম বলেন, এ প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট প্রায় ২১ টাকা ৭০ পয়সা। দাম তুলনামূলক বেশি হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুবিধা বিবেচনায় এটি লাভজনক হবে।

এছাড়া বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের সুযোগও থাকবে এবং ল্যান্ডফিল ব্যবহারের জন্য সিটি করপোরেশনকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ভাড়া দেবে। প্রকল্পে সরকারের সরাসরি বিনিয়োগ লাগবে না বলেও জানান তিনি।

ঢাকার দাসেরকান্দি পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার প্রকল্পে আরও বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে চীন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটির মাত্র ৩০ শতাংশ কার্যক্রম চালু হয়েছে। বাকি ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে চীন ঋণ বা অনুদানের মাধ্যমে অর্থায়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।

দাসেরকান্দি প্রকল্পে গুলশান, বারিধারা ও বনানীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগ স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ জন্য সরকার প্রায় এক হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। চীন বিনিয়োগ করলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর এ অর্থের চাপ কমবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!