ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকা-চট্টগ্রাম উড়াল রেলপথ: খরচ কেমন—সময় বাঁচবে কত?

কালের সমাজ ডেস্ক | অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম ঢাকা-চট্টগ্রাম উড়াল রেলপথ: খরচ কেমন—সময় বাঁচবে কত?

ঢাকার শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত রেলপথটি পুরোপুরি উড়ালপথে নির্মাণ করা হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে। পাশাপাশি যাতায়াতের সময় কমবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে একটি লিখিত বক্তব্যও দেওয়া হয়।

উপদেষ্টা জানান, প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চার বছর সময় লাগবে। তবে রেলপথটি সম্পূর্ণ উড়াল কাঠামোয় নির্মাণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। গত ৫ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়।

সাশ্রয় হবে ৩২২ একর জমি

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুরো রেলপথ উড়াল কাঠামোয় নির্মাণ করা হলে প্রায় ৩২২ একর জমি সাশ্রয় হবে। অন্যদিকে, মাটির বাঁধ ও উড়াল কাঠামোর সমন্বয়ে রেলপথটি নির্মাণ করা হলে ব্যয় হতো প্রায় ৭৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা।


সে হিসাবে সম্পূর্ণ উড়ালপথ নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। তবে এর মাধ্যমে জমির ব্যবহার কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতির নকশা

প্রস্তাবিত কর্ডলাইনটি ডাবল ট্র্যাকের ব্রডগেজ রেলপথ হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি ২৫ টন এক্সেল লোড বহনে সক্ষম হবে। রেলপথটির নকশাগত সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার এবং পরিচালনগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার।

এ ছাড়া নতুন রেলপথটিতে ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালানোর সুযোগ থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, উড়ালপথ নির্মাণের সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর এর অগ্রগতি নির্ভর করবে।
কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!