নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর কোথায় হবে—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে উত্তরাঞ্চল। সরকারের গেজেটে সদর দপ্তর ভুজপুরে নির্ধারণের পর থেকে আন্দোলনরত বাসিন্দারা দাবি করছেন, নির্ধারিত স্থানটি ভৌগোলিকভাবে উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের জন্য সুবিধাজনক নয়। এই দাবিতে রোববার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
হরতালের কারণে বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ঢাকা–খাগড়াছড়ি মহাসড়ক এবং বারৈয়ারহাট–ফটিকছড়ি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
গত ৮ জুলাই প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনে দাঁতমারা, বাগানবাজার, নারায়ণহাট, ভুজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর পশ্চিম ভুজপুর মৌজায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রস্তাবিত সদর দপ্তর বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে হলেও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ২৫ থেকে ৩৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে। এতে নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য—জনগণের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দেওয়া—ব্যাহত হবে বলে তাদের অভিযোগ।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন আজাদ বলেন, জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী জুজখোলা মৌজা অথবা সমান দূরত্বে অবস্থিত অন্য কোনো স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে আন্দোলনের অবসান হতে পারে।
এ দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, হরতাল, সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনের পরিধি বাড়তে থাকায় বিষয়টি এখন স্থানীয় প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও সাঈদ ইব্রাহিম জানান, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এবং উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে সদর দপ্তরের স্থান চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলম মাসুদ। তার আবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধপূর্ণ অবস্থায় কার্যক্রম শুরু হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
ভুজপুর থানার (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, হরতালকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন উপজেলা গঠনের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনসাধারণের সেবাপ্রাপ্তির বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে চলমান বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি জনভোগান্তিও আরও বাড়তে পারে।
কালের সমাজ/কে.পি

