ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

যানজট ঠেকাতে সড়কে দেবদূত, ব্যস্ত পয়েন্টে ট্রাফিক তৎপরতা

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার | অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম যানজট ঠেকাতে সড়কে দেবদূত, ব্যস্ত পয়েন্টে ট্রাফিক তৎপরতা

পর্যটননগরী কক্সবাজারের যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ব্যস্ত মোড়গুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে দায়িত্ব পালন করছে ট্রাফিক পুলিশ। বাস টার্মিনাল থেকে কলাতলী, ডলফিন মোড়, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের তৎপরতায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনাল, কলাতলী মোড়, ডলফিন মোড়, সুগন্ধা পয়েন্ট, লাবণী পয়েন্ট, গুণগাছতলা, বিমানবন্দর সড়ক, বাবুর পেট্রলপাম্প ও খুরুশকুল রাস্তার মাথাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনের চাপ সামলানো ট্রাফিক পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। পর্যটন মৌসুম, সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির দিনে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পথচারী ও পর্যটকদের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

ব্যস্ত পয়েন্টে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা:
যানজট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদারের মাঠপর্যায়ের তদারকি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরছে। অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা যানজট নিরসনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

বিশেষ করে কলাতলী ও ডলফিন মোড়, বাস টার্মিনাল এবং পর্যটনকেন্দ্র-সংলগ্ন সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থাপনা জরুরি। এসব এলাকায় যানবাহন চলাচলে সামান্য বিশৃঙ্খলাও দীর্ঘ যানজটের কারণ হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং সড়কে আইন মেনে চলার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

যানজট নিরসনে প্রয়োজন সবার সহযোগিতা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার বলেন, “কক্সবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটননগরী। এখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটে। তাই সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিরসন এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি পরিবহনচালক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা পরিহার করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কক্সবাজারের সড়কগুলোকে আরও সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব করা সম্ভব।

সচেতন নাগরিকদের মতে,যানজটের স্থায়ী সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতির পাশাপাশি সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নির্ধারিত স্থানে যানবাহন পার্কিং এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বাস টার্মিনাল ও ব্যস্ত মোড়গুলোতে যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।

কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের বিকাশ, নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং পর্যটকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। মাঠপর্যায়ে তদারকি, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে যানজটের ভোগান্তি কমিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা আরও সহজ হবে। এখন নগরবাসী ও পর্যটকদের প্রত্যাশা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং কক্সবাজারের সড়কে ফিরবে স্বস্তি।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!