ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বান্দরবানে পাহাড়ে পর্যটক বরণে প্রস্তুত বান্দরবান

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান | অক্টোবর ১১, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম বান্দরবানে পাহাড়ে পর্যটক বরণে প্রস্তুত  বান্দরবান

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, সবুজের সমারোহ, মেঘের আনাগোনা আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য- সব মিলিয়ে পর্যটকদের কাছে বরাবরই আকর্ষণীয় বান্দরবান। কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রশান্তির খোঁজে পাহাড়ের এই শহরে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা।

আসন্ন দুর্গাপূজা ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমার টানা ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলার পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত, দেবতাখুম, নাফাখুম, আমিয়াখুম ও লাংলোক ঝরনাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ, ছবি তোলা কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে অবসর কাটাতে এসব স্থান প্রতিবছরই আকর্ষণ করে ভ্রমণপিপাসুদের।

পর্যটকদের আগমন ঘিরে বান্দরবানের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে চলছে প্রস্তুতি। টানা ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে- এমন প্রত্যাশা থেকে আবাসন ব্যবসায়ীরা আগাম বুকিং নিচ্ছেন। ছুটি যত ঘনিয়ে আসবে, বুকিংয়ের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা তাদের।গ্র্যান্ড ভ্যালির ব্যবস্থাপক সুমন বলেন, “এবার পূজা ও প্রবারণা উৎসবের টানা ছুটিতে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের হোটেল-মোটেলের ৫০-৬০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। যেহেতু টানা ছুটি রয়েছে, সেহেতু পর্যটকদের আগমন ঘটবে বলে আশা করছি”।

প্রস্তুত চার শতাধিক চাঁদের গাড়ি পর্যটকদের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রস্তুত রাখা হয়েছে চার শতাধিক চাঁদের গাড়ি। পাহাড়ি পথে চলাচলের উপযোগী এসব জিপ বান্দরবানের পর্যটন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাহন। পর্যটকের চাপ বাড়লে পরিবহনসেবা সচল রাখতে চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।পর্যটকদের আগমন বাড়লে পরিবহনকর্মীদের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পর্যটননির্ভর অন্যান্য পেশার মানুষের কর্মব্যস্ততাও বাড়বে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন বান্দরবানবাসী।জিপ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির লাইনম্যান মো. কামাল বলেন, “বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ছুটে চলা চার শতাধিক চাঁদের গাড়ি ইতিমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে। জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র যেহেতু উন্মুক্ত রয়েছে, সেহেতু বিগত সময়ে নানা সমস্যার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তা এখন কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারব। চালকেরা পর্যটকদের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন”।

পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি থাকলেও টানা ছুটিতে শেষ মুহূর্তে ভিড় বেড়ে গেলে আবাসনসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা। এ কারণে পর্যটকদের আগেভাগে হোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ বুকিং করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।বান্দরবান হোটেল-মোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, “এবার পূজার টানা ছুটিতে হোটেল-মোটেলে ১০-১৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। লম্বা একটা ছুটি রয়েছে, তাই পর্যটকেরা আবাসনসংকটে পড়তে পারেন। সে জন্য সময় থাকতে বুকিং করে রাখা ভালো”।পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রস্তুত প্রশাসন

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। একই সঙ্গে পর্যটকেরা যাতে ভ্রমণের সময় বাড়তি সুযোগ-সুবিধা পান, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, “পূজার টানা ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের কীভাবে আরও বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।সব মিলিয়ে দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমার ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। আগাম বুকিং, পরিবহন প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পর্যটন খাতে নতুন কর্মচাঞ্চল্য ফেরার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

কালের সমাজ/কে.পি

Link copied!