ঢাকা রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩
এবারের বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু সরকারি সহায়তা অব্যাহত

কালের সমাজ ডেস্ক | জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু সরকারি সহায়তা অব্যাহত
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে এবং ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চট্টগ্রামে প্রায় সাত লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজও শুরু হয়েছে এবং পুনর্বাসন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দুর্গত মানুষের জন্য চাল, রান্না করা খাবার, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী নিয়মিত বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো একযোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়। তিনি আশ্বাস দেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এবারের বন্যায় কৃষি খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানের ক্ষেত, শাকসবজি, মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক তাদের বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। একই সঙ্গে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে কৃষকদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক করতে বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে বন্যার পানির তোড়ে অনেক সড়ক, কালভার্ট ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ইতোমধ্যে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ শেষে অর্থমন্ত্রী পতেঙ্গা থেকে চন্দনাইশের উদ্দেশে রওনা দেন। পরে তিনি সাতকানিয়া, লোহাগড়া ও বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং স্থানীয়দের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অতিবৃষ্টি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে বন্যার ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই তাৎক্ষণিক ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ব্যবস্থাপনা, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং কার্যকর পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত লাঘব করা সম্ভব হবে।

কালের সমাজ/এএইচবি 

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!